গান্ধীনগর, ৬ জুলাই (আইএএনএস): ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সোমবার গুজরাট বিধানসভার প্রাঙ্গণে তাঁর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র পটেল। তিনি ভারতীয় জনসংঘের প্রতিষ্ঠাতাকে একজন বিশিষ্ট জাতীয়তাবাদী চিন্তাবিদ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, জাতীয় ঐক্য ও জনসেবার ক্ষেত্রে তাঁর আদর্শ আজও প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করছে।
বিধানসভার স্মরণসভায় প্রবীণ বিধায়ক, জনপ্রতিনিধি এবং সরকারি আধিকারিকদের উপস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের তৈলচিত্রে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ দেওয়া এক বার্তায় ভূপেন্দ্র পটেল বলেন, “ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত কাশ্মীরের সম্পূর্ণ একীকরণ এবং দেশের সব নাগরিকের সমান নাগরিক অধিকারের জন্য লড়াই করেছিলেন।”
তিনি আরও বলেন, “‘এক দেশে দুই সংবিধান, দুই প্রধানমন্ত্রী এবং দুই পতাকা’র নীতির অবসান ঘটানোর যে স্বপ্ন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় দেখেছিলেন, তা আজ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-র নেতৃত্বে বাস্তবায়িত হয়েছে। তাঁর ‘রাষ্ট্র সর্বাগ্রে’র আদর্শ এবং দেশপ্রেমের চেতনা চিরকাল মানুষের হৃদয়ে মাতৃভূমির প্রতি উৎসর্গের অগ্নিশিখা জ্বালিয়ে রাখবে।”
১৯০১ সালের ৬ জুলাই জন্মগ্রহণকারী ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ছিলেন একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, সাংসদ ও রাজনীতিক। তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বকনিষ্ঠ উপাচার্য ছিলেন। স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু-র মন্ত্রিসভায় শিল্প ও সরবরাহমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করার পর ১৯৫১ সালে পদত্যাগ করে ভারতীয় জনসংঘ প্রতিষ্ঠা করেন।
তাঁর রাজনৈতিক জীবন মূলত জাতীয় সংহতির পক্ষে অবস্থান এবং জম্মু ও কাশ্মীরের তৎকালীন বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদার বিরোধিতার জন্য পরিচিত। ১৯৫৩ সালে অনুমতিপত্র ছাড়া তৎকালীন জম্মু ও কাশ্মীরে প্রবেশের সময় গ্রেফতার হওয়ার পর শ্রীনগরে হেফাজতে তাঁর মৃত্যু হয়।
কেন্দ্রীয় সরকার ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দু’বছরব্যাপী দেশব্যাপী কর্মসূচির আয়োজন করেছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে রাজনীতি, শিক্ষা, শিল্প এবং জনজীবনে তাঁর অবদান তুলে ধরা হচ্ছে।
গান্ধীনগরের অনুষ্ঠানে গুজরাট বিধানসভার উপাধ্যক্ষ পূর্ণেশ মোদী, মুখ্য সচেতক বালকৃষ্ণ শুক্ল, বিধায়ক রীতা পটেল ও আল্পেশ ঠাকোর, গান্ধীনগরের মেয়র মীরা পটেল, শহর বিজেপি সভাপতি ড. আশিস দাভে-সহ একাধিক জনপ্রতিনিধি ও সরকারি আধিকারিক উপস্থিত ছিলেন।
গান্ধীনগরের এই শ্রদ্ধার্ঘ্য অনুষ্ঠান ছিল দেশজুড়ে পালিত ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকীর কর্মসূচিরই একটি অংশ।



















