গুয়াহাটি, ৬ জুলাই (আইএএনএস): গ্রামীণ যুবকদের উদ্যোগপতি হিসেবে গড়ে তুলতে এবং ব্যবসা শুরু করার প্রক্রিয়া আরও সহজ করতে বড় সিদ্ধান্ত নিল অসম সরকার। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা সোমবার ঘোষণা করেছেন, নির্দিষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন গ্রামীণ যুবকরা এবার কৃষিজমির ব্যবহার পরিবর্তনের পূর্বানুমতি ছাড়াই সেই জমিতে ক্ষুদ্র শিল্প বা খাদি ইউনিট স্থাপন করতে পারবেন।
সামাজিক মাধ্যমে করা এক পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী জানান, গ্রামীণ এলাকায় ক্ষুদ্র উদ্যোগ গড়ে তোলার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং স্বনিযুক্তির সুযোগ বাড়াতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, ‘ইজ অব ডুয়িং বিজনেস’-এর আওতায় মানুষের উদ্যোগপতি হওয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নকে আরও সহজ করাই সরকারের লক্ষ্য।
নতুন ব্যবস্থায় যোগ্য গ্রামীণ উদ্যোক্তাদের আর কৃষিজমির ব্যবহার পরিবর্তনের অনুমতির জন্য জেলা প্রশাসকের (ডিসি) দফতরে আবেদন করতে হবে না। ক্ষুদ্র শিল্প ও খাদি ইউনিটের ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জমির ব্যবহার পরিবর্তনের অনুমোদন কার্যকর হবে।
সরকারি সূত্রের দাবি, এই সিদ্ধান্তের ফলে দীর্ঘ প্রশাসনিক জটিলতা কমবে, গ্রামীণ অসমে ব্যবসা শুরু করা আরও সহজ হবে এবং কৃষির ওপর একমাত্র নির্ভর না থেকে আরও বেশি যুবক উদ্যোক্তা হতে উৎসাহিত হবেন।
এছাড়া রাজ্য সরকারের বিভিন্ন উদ্যোক্তা ও স্বনিযুক্তি প্রকল্পের সুবিধাভোগীরাও নিজেদের মালিকানাধীন জমিতে দ্রুত উৎপাদন ইউনিট গড়ে তুলতে পারবেন বলে মনে করছে সরকার।
সরকারের মতে, এই সংস্কারের মাধ্যমে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, গ্রামভিত্তিক শিল্পের বিকাশ এবং কৃষিজাত পণ্যের ক্ষুদ্র প্রক্রিয়াকরণ ও উৎপাদনের মাধ্যমে মূল্য সংযোজন সম্ভব হবে।
এই পদক্ষেপ অসম সরকারের বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার বৃহত্তর কর্মসূচির অংশ। সাম্প্রতিক বছরগুলিতে রাজ্যে সরকারি পরিষেবার ডিজিটালাইজেশন, ব্যবসার অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং শিল্পোন্নয়নের লক্ষ্যে একাধিক প্রশাসনিক সংস্কার কার্যকর করা হয়েছে।
সরকারের বক্তব্য, অপ্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক জটিলতা কমানোই একদিকে যেমন বিনিয়োগ আকর্ষণে সহায়ক হবে, তেমনই অন্যদিকে ক্ষুদ্র ও ছোট উদ্যোগের মাধ্যমে গ্রামীণ যুবকদের জন্য নতুন কর্মসংস্থান ও স্বনিযুক্তির সুযোগ তৈরি করবে। বিশেষ করে প্রথম প্রজন্মের উদ্যোক্তারা নিজেদের গ্রামেই দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার ঝামেলা ছাড়াই উদ্যোগ গড়ে তুলতে এই সিদ্ধান্তে উল্লেখযোগ্যভাবে উপকৃত হবেন।



















