নয়াদিল্লি, ৪ জুলাই (আইএএনএস): পেঁয়াজ চাষিদের আরও ভালো দাম নিশ্চিত করতে এবং মূল্য স্থিতিকরণ বাফার মজুত শক্তিশালী করতে কেন্দ্র সরকার পেঁয়াজের সংগ্রহমূল্য ১৩ শতাংশ বাড়ানোর ঘোষণা করেছে। শনিবার থেকে কার্যকর হওয়া নতুন দরে কুইন্টাল প্রতি সংগ্রহমূল্য ১,৮৭৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২,১২৫ টাকা করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ভোক্তা বিষয়ক মন্ত্রক জানিয়েছে, সরকারের মূল্য স্থিতিকরণ বাফারের জন্য ন্যাশনাল অ্যাগ্রিকালচারাল কো-অপারেটিভ মার্কেটিং ফেডারেশন (ন্যাফেড) এবং ন্যাশনাল কো-অপারেটিভ কনজিউমার্স ফেডারেশন (এনসিসিএফ)-এর মাধ্যমে পেঁয়াজ সংগ্রহের কাজ চলছে।
মন্ত্রকের মতে, সংশোধিত সংগ্রহমূল্যের ফলে একদিকে যেমন পেঁয়াজ চাষিরা বেশি লাভবান হবেন, অন্যদিকে সরকারের বাফার মজুত তৈরির উদ্যোগও আরও শক্তিশালী হবে।
কৃষি ও কৃষক কল্যাণ দফতরের দ্বিতীয় অগ্রিম উৎপাদন অনুমান অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে পেঁয়াজ উৎপাদন ৩০৭.৩৭ লক্ষ মেট্রিক টন হতে পারে, যা ২০২৪-২৫ সালের ৩০৭.৬৭ লক্ষ মেট্রিক টন উৎপাদনের প্রায় সমান।
মন্ত্রক জানিয়েছে, উৎপাদনের এই হিসাব অনুযায়ী বর্তমানে দেশে পেঁয়াজের সামগ্রিক জোগান নিয়ে উদ্বেগের কোনও কারণ নেই। যদিও মৌসুমি প্রবণতার কারণে দামে কিছুটা বৃদ্ধি হতে পারে।
সরকারের দাবি, মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্রদেশ এবং গুজরাটে বর্তমানে পর্যাপ্ত পেঁয়াজ মজুত রয়েছে এবং সংরক্ষিত পেঁয়াজের ঘাটতির কোনও ইঙ্গিত নেই।
বর্তমানে দেশজুড়ে প্রতিদিন বিভিন্ন পাইকারি বাজারে ৫০ হাজার মেট্রিক টনেরও বেশি পেঁয়াজ আসছে। এর মধ্যে শুধু মহারাষ্ট্রেই প্রতিদিন ৩০ হাজার মেট্রিক টনের বেশি পেঁয়াজ বাজারে পৌঁছাচ্ছে। সেখানে গড় পাইকারি মূল্য প্রায় কেজি প্রতি ১৮ টাকা।
মন্ত্রক জানিয়েছে, উন্নত মানের পেঁয়াজ এখনও গুদামে সংরক্ষিত রয়েছে এবং সরবরাহ কমে গেলে তা বাজারে ছাড়া হবে। বর্তমানে দেশে পেঁয়াজের গড় খুচরো দাম কেজি প্রতি ৩১ টাকা।
রফতানিও স্বাভাবিক রয়েছে। জুন মাসে প্রায় ১.৫০ লক্ষ মেট্রিক টন পেঁয়াজ রফতানি হয়েছে। তবে পাকিস্তান ও চিনের নতুন ফসল উপসাগরীয় দেশ, শ্রীলঙ্কা এবং দূরপ্রাচ্যের বাজারে প্রতিযোগিতামূলক দামে পাওয়া যাওয়ায় আগামী কিছুদিন রফতানির গতি কিছুটা কমতে পারে বলে ব্যবসায়ীদের ধারণা।
সরকার জানিয়েছে, মহারাষ্ট্রের নাসিক অঞ্চলে খরিফ মরসুমের বপন প্রায় ১৫ দিন দেরিতে শুরু হয়েছে। অন্যদিকে কর্নাটকের চিত্রদুর্গ ও চল্লাকেরে অঞ্চলে স্বাভাবিকের প্রায় ৬০ শতাংশ বপন সম্পন্ন হয়েছে।
কিছু অঞ্চলে বর্ষার দেরিতে আগমন এবং স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাতের কারণে একাংশ ব্যবসায়ীর মধ্যে জল্পনাভিত্তিক কেনাবেচা বেড়েছে। তবে বর্তমান দামে বড় ভোক্তা বাজারগুলিতে চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়েনি বলে জানিয়েছে কেন্দ্র।



















