নয়াদিল্লি, ২ জুলাই (আইএএনএস): গত ১২ বছরে জাপানের ‘কাইজেন’ (নিরবচ্ছিন্ন উন্নতি) নীতি অনুসরণ করে ভারতের অর্থনীতির ‘ডিএনএ’ বদলে গেছে বলে মন্তব্য করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। একই সঙ্গে তিনি জাপানি শিল্পপতি ও বিনিয়োগকারীদের ভারতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।
বৃহস্পতিবার ভারত-জাপান যৌথ অর্থনৈতিক ফোরামে ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ভারত বর্তমানে বিশ্বের দ্রুততম হারে বৃদ্ধি পাওয়া বৃহৎ অর্থনীতি। গত অর্থবর্ষে ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির হার ছিল ৭.৭ শতাংশ।”
তিনি বলেন, “গত ১২ বছরে আমরা ‘কাইজেন’ অর্থাৎ নিরবচ্ছিন্ন উন্নতির দর্শন অনুসরণ করে ভারতের অর্থনীতির ডিএনএ পরিবর্তন করেছি।”
প্রধানমন্ত্রী জানান, কেন্দ্রের সংস্কার কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ছিল প্রশাসন, কর ব্যবস্থা এবং ব্যবসা করার পরিবেশে ধারাবাহিক উন্নতি এনে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা।
তিনি বলেন, “সম্প্রতি কর ব্যবস্থা, প্রশাসন এবং ‘ইজ অব ডুয়িং বিজনেস’-এ পরবর্তী প্রজন্মের সংস্কার করা হয়েছে। আমরা প্রায় সব ক্ষেত্রই বেসরকারি বিনিয়োগের জন্য খুলে দিচ্ছি। বহু ক্ষেত্রে বিশেষ প্রণোদনাও দেওয়া হচ্ছে, যার সুবিধা জাপানি সংস্থাগুলিও নিতে পারে।”
মোদি জানান, বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রণোদনা প্রকল্প চালুর ফলে জাপানি সংস্থাগুলির জন্য ভারতে ব্যবসা সম্প্রসারণের নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন-এর বার্ষিক সমীক্ষা অনুযায়ী, টানা চার বছর ধরে জাপানি ব্যবসায়ীদের কাছে ভারত সবচেয়ে সম্ভাবনাময় বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে উঠে এসেছে। এটি ভারতীয় অর্থনীতির প্রতি জাপানি বিনিয়োগকারীদের আস্থারই প্রতিফলন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি-র সঙ্গে বৈঠকে অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), প্রতিরক্ষা এবং স্বাস্থ্য পরিষেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে।
তিনি বলেন, “এই সিদ্ধান্তগুলি ভারত-জাপান অংশীদারিত্বকে আরও ভবিষ্যতমুখী এবং সীমাহীন সম্ভাবনাময় করে তুলবে।”
ভাষণের শেষে দুই দেশের শিল্পমহলের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের দুই সরকারের মধ্যে কৌশলগত সমন্বয়, পারস্পরিক আস্থা এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল স্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। এখন এই নীতিগত সিদ্ধান্তগুলিকে বাস্তব বিনিয়োগ ও সহযোগিতায় রূপ দেওয়ার দায়িত্ব আপনাদের।”



















