কলকাতা, ২ জুলাই (আইএএনএস): পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের বিদ্রোহী বিধায়কদের সংখ্যাগরিষ্ঠ গোষ্ঠীর নেতা, বহিষ্কৃত তৃণমূল নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বৃহস্পতিবার ভারতের নির্বাচন কমিশন (ইসিআই)-র পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের সামনে দাবি করেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতেই দলীয় নাম ও নির্বাচনী প্রতীকের উপর তাঁদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়।
বিদ্রোহী বিধায়কদের ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল এদিন নির্বাচন কমিশনের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠক করে। বৈঠক শেষে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিকদের বলেন, “দলের নাম ও প্রতীকের অধিকার আলাদা করে দাবি করার কোনও প্রয়োজনই আমাদের নেই।”
তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে দলের দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি বিধায়ক আমাদের সঙ্গে রয়েছেন। আগের তৃণমূল সরকারের অধিকাংশ প্রাক্তন মন্ত্রী আমাদের পাশে আছেন। বিভিন্ন পুরসভা ও পুরনিগমের অধিকাংশ কাউন্সিলর এবং বিভিন্ন জেলার জেলা পরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যও আমাদের সঙ্গে। তাই দলীয় নাম ও প্রতীক নিয়ে আলাদা দাবি তোলার প্রয়োজন নেই।”
ঋতব্রত জানান, গত ২২ জুন দলের প্রতিনিধিদের বিশেষ সম্মেলনে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর পরিবর্তে প্রবীণ বিধায়ক অরূপ রায়-কে দলের নতুন চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হয়। পাশাপাশি বিধায়ক আখরুজ্জামান-কে দলের নতুন কোষাধ্যক্ষ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “সম্মেলনের পরদিনই আমরা নির্বাচন কমিশনকে বিষয়টি জানিয়েছিলাম। আজ কমিশনের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ আমাদের, অর্থাৎ অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধিদের, বক্তব্য শোনার জন্য সময় দিয়েছে। আমরা আমাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছি।”
ঋতব্রতের দাবি, নির্বাচন কমিশন তাঁদের সমস্ত বক্তব্য নথিভুক্ত করেছে এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে।
অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-ঘনিষ্ঠ শিবিরের অন্যতম মুখ কুণাল ঘোষ বিদ্রোহী শিবিরের কমিশন বৈঠককে কটাক্ষ করেন।
কুণাল ঘোষ বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাদ দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের অস্তিত্বই সম্ভব নয়। দলের কর্মী-সমর্থক সবাই তাঁর সঙ্গেই আছেন। যারা আজ নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ বলে দাবি করছে, দু’মাস আগে নির্বাচন কমিশনে যে হলফনামা জমা দিয়েছিল, তাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়েরই স্বাক্ষর ছিল। এটা যেন বাড়ির ভাড়াটে নিজেকে বাড়ির মালিক বলে দাবি করছে।”



















