নয়াদিল্লি, ১ জুলাই (আইএএনএস): যক্ষ্মামুক্ত ভারত (টিবি মুক্ত ভারত) অভিযান এবং ১০০ দিনের বিশেষ কর্মসূচি নিয়ে বুধবার দিল্লি সরকারের সঙ্গে পর্যালোচনা বৈঠকে বসেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জগত প্রকাশ নাড্ডা। বৈঠকে তিনি বলেন, যক্ষ্মা নির্মূলে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলেও প্রচেষ্টা ও ফলাফলের মধ্যে যে ব্যবধান রয়েছে, তা দূর করতে হলে ‘জনভাগীদারি’ বা মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, শুধুমাত্র স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে যক্ষ্মা নির্মূল সম্ভব নয়। এই লক্ষ্য পূরণে সাধারণ মানুষ, জনপ্রতিনিধি এবং নাগরিক সমাজকে যুক্ত করে এটিকে একটি গণআন্দোলনে পরিণত করতে হবে।
তিনি নির্দেশ দেন, সাংসদ, বিধায়ক এবং পুর প্রতিনিধিদের নিয়মিতভাবে তাঁদের এলাকার যক্ষ্মার প্রকোপ, চ্যালেঞ্জ, গৃহীত পদক্ষেপ এবং রোগী শনাক্তকরণ, চিকিৎসা অব্যাহত রাখা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে তাঁদের সম্ভাব্য ভূমিকা সম্পর্কে স্বাস্থ্য আধিকারিকদের অবহিত করতে হবে।
নাড্ডা বলেন, জনপ্রতিনিধিরা সরকার ও সাধারণ মানুষের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করেন। তাঁদের সক্রিয় অংশগ্রহণ তৃণমূল স্তরে এই কর্মসূচির বাস্তবায়নকে আরও শক্তিশালী করবে।
তিনি আরও নির্দেশ দেন, প্রতিটি ওয়ার্ডে একজন করে সিনিয়র সরকারি আধিকারিককে এই অভিযানের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি যক্ষ্মা দ্রুত শনাক্ত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সংযুক্ত আরও বেশি সংখ্যক হ্যান্ডহেল্ড এক্স-রে মেশিন সরবরাহের আশ্বাস দেন তিনি।
এদিনই বর্ষার আগে দিল্লিতে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে প্রস্তুতি খতিয়ে দেখতে একটি উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা বৈঠকও করেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
বৈঠকে ডেঙ্গুর বর্তমান পরিস্থিতি, হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের প্রস্তুতি এবং সংশ্লিষ্ট নাগরিক সংস্থাগুলির প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি দিল্লিতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে নজরদারি জোরদার, মশা নিয়ন্ত্রণ, দ্রুত রোগী শনাক্তকরণ, চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য একটি বিস্তৃত কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়।
নাড্ডা জানান, বর্তমানে দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ কম এবং মৃত্যুহারও মাত্র ০.১১ শতাংশ। তবে আগামী কয়েক মাসে ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে সতর্ক করে তিনি সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখার নির্দেশ দেন।
























