শ্রীগঙ্গানগর, ১ জুলাই : ১৩ বছরের এক নাবালিকাকে অপহরণ করে টানা পাঁচ দিন ধরে নৃশংসভাবে গণধর্ষণের ঘটনায় ফুঁসে উঠেছে রাজস্থানের শ্রীগঙ্গানগর। জনরোষের মুখে পড়ে এবং অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়ে তড়িঘড়ি কড়া পদক্ষেপ নিল জেলা প্রশাসন। অপরাধস্থল হিসেবে চিহ্নিত চারটি হোটেলকে বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় পুলিশ ও জেলা প্রশাসন যৌথভাবে এই উচ্ছেদ অভিযান চালায়।
জেলা পুলিশ সুপার হরিশঙ্কর জানিয়েছেন, অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনের কঠোরতম ধারায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই জঘন্য অপরাধের সঙ্গে যুক্ত কাউকেই রেয়াত করা হবে না।
পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে এক ভয়ঙ্কর তথ্য। গত ১৮ জুন নিজের বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়েছিল ওই নাবালিকা। অভিযোগ, এক রিকশাচালক ওই কিশোরীকে ফুঁসলিয়ে অপহরণ করে এবং পরে শহরের এক হোটেল মালিকের কাছে বিক্রি করে দেয়। এরপরই শুরু হয় নারকীয় নির্যাতন। গত পাঁচ দিনে শহরের বিভিন্ন হোটেলে প্রায় ৩০ জনেরও বেশি নরপশু ওই নাবালিকার ওপর ক্রমাগত যৌন নির্যাতন চালায় বলে জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা।
এফআইআর সূত্রে জানা গেছে, এই পাশবিক নির্যাতনে শুধু বহিরাগতরাই নয়, একাধিক হোটেল মালিক এবং ম্যানেজার সরাসরি যুক্ত ছিল। শুধু তাই নয়, ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ারও আপ্রাণ চেষ্টা চালায় তারা। নির্যাতিতা নাবালিকা পুলিশকে জানিয়েছে, যন্ত্রণায় চিৎকার করলেই তাকে জোর করে মদ খাইয়ে দেওয়া হতো, যাতে তার আওয়াজ বাইরে না পৌঁছায়।
এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১২ জন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মূল অভিযুক্তদের মধ্যে বেশ কয়েকজন হোটেল ব্যবসায়ীও রয়েছে। গণধর্ষণে জড়িত বাকি অপরাধীদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার করতে জেলাজুড়ে চিরুনি তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ প্রশাসন। এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ও ক্ষোভ ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়।
























