আগরতলা, ১ জুলাই: কেন্দ্রীয় গ্রামীণ উন্নয়ন মন্ত্রকের উদ্যোগে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত দু’দিনব্যাপী জাতীয় গ্রামীণ উন্নয়ন সম্মেলনে ত্রিপুরার উচ্চশিক্ষা ও পঞ্চায়েতমন্ত্রী কিশোর বর্মন রাজ্যের গ্রামীণ উন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন দাবি ও প্রস্তাব কেন্দ্রের সামনে তুলে ধরেন।
কেন্দ্রীয় কৃষি, কৃষক কল্যাণ ও গ্রামীণ উন্নয়নমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে দেশের ২৯টি রাজ্যের গ্রামীণ উন্নয়ন মন্ত্রী এবং কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের শীর্ষ আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। ত্রিপুরা সরকারের প্রতিনিধিত্ব করেন মন্ত্রী কিশোর বর্মন।
সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কিশোর বর্মন জানান, ‘বিকশিত ভারত – গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ)’ বাস্তবায়নের জন্য ত্রিপুরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তিনি বলেন, প্রকল্পটি ১ জুলাই ২০২৬ থেকে চালু করার লক্ষ্যে সমস্ত প্রশাসনিক, আর্থিক ও আইনি প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, ত্রিপুরা সরকার গ্রামীণ উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলির কার্যকর বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং ‘বিকশিত ভারত’-এর লক্ষ্য পূরণে সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে।
এদিন কেন্দ্রের কাছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দাবি উত্থাপন করেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে জুলাই-সেপ্টেম্বর ২০২৬ ত্রৈমাসিকের জন্য ৪৮২ কোটি টাকা দ্রুত বরাদ্দ, এবং পূর্ববর্তী মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান নিশ্চয়তা আইন-এর আওতায় উপকরণ বাবদ বকেয়া প্রায় ৩৪০ কোটি টাকা দ্রুত মঞ্জুর করার আবেদন।
এছাড়াও জল সংরক্ষণ, গ্রামীণ পরিকাঠামো উন্নয়ন, জীবিকাভিত্তিক প্রকল্প এবং জলবায়ু সহনশীলতা সংক্রান্ত প্রকল্প বাস্তবায়নে রাজ্যগুলিকে আরও বেশি প্রশাসনিক নমনীয়তা দেওয়ার জন্য কেন্দ্রের কাছে আবেদন জানান তিনি।
গ্রামীণ আবাসন প্রসঙ্গে কিশোর বর্মন জানান, ত্রিপুরায় বর্তমানে প্রায় ২ লক্ষ ৫৬ হাজার যোগ্য পরিবার স্থায়ী আবাসনের অপেক্ষায় রয়েছে। তাই প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা (গ্রামীণ)-এর অধীনে চলতি অর্থবর্ষে অতিরিক্ত ১ লক্ষ ৫০ হাজার বাড়ি অনুমোদনের দাবি জানান তিনি।
এছাড়া প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনা -এর আওতায় এনবিসিসি এবং এইচএসসিএল -এর মতো সংস্থা থেকে হস্তান্তরিত গ্রামীণ সড়কের সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ৫০ কোটি টাকার বিশেষ আর্থিক সহায়তা চেয়েছেন মন্ত্রী।
সম্মেলনের শেষে কিশোর বর্মন বলেন, কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের সমন্বিত উদ্যোগে এই প্রকল্পগুলি বাস্তবায়িত হলে ত্রিপুরার গ্রামীণ উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে এবং ‘বিকশিত ভারত’ গঠনের ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে।



















