দেহরাদুন, ৩০ জুন(আইএএনএস) : শিক্ষা নীতিতে বড় পরিবর্তনের পথে হাঁটছে উত্তরাখণ্ড সরকার। মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে রাজ্যের বর্তমান উত্তরাখণ্ড মাদ্রাসা বোর্ড বিলুপ্ত হতে চলেছে। তার পরিবর্তে ১ জুলাই, বুধবার থেকে কার্যক্রম শুরু করবে নবগঠিত উত্তরাখণ্ড স্টেট মাইনরিটি এডুকেশন অথরিটি।
এই পরিবর্তনের আগে উত্তরাখণ্ড সরকারের বিশেষ সচিব পরাগ মধুকর ঢাকাতে জানান, ১ জুলাই থেকে নতুন বিধি কার্যকর হবে। এর ফলে রাজ্যের সমস্ত সংখ্যালঘু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নতুন কর্তৃপক্ষের আওতায় পরিচালিত হবে।
তিনি বলেন, বুধবার থেকেই নতুন কাঠামো অনুযায়ী সংখ্যালঘু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির কার্যক্রম শুরু হবে এবং এর মাধ্যমে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীরা আধুনিক শিক্ষার সঙ্গে আরও বেশি পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাই মাস থেকে মাদ্রাসাগুলিকে প্রচলিত পাঠ্যক্রমের পরিবর্তে উত্তরাখণ্ড বোর্ডের পাঠ্যক্রম অনুসরণ করতে হবে।
নতুন পাঠ্যক্রমে বিজ্ঞান, গণিত, সমাজবিজ্ঞান এবং কম্পিউটার বিজ্ঞানসহ আধুনিক বিষয়গুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পাশাপাশি, এই নির্দেশিকা লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলির বিরুদ্ধে বন্ধ করে দেওয়ার মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
সরকারের এই সিদ্ধান্তকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের শিক্ষিত মহল এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিদের একাংশ স্বাগত জানিয়েছেন।
উত্তরাখণ্ড ওয়াকফ বোর্ডের চেয়ারম্যান শাদাব শামস বলেন, নতুন সংস্থা গঠনের ফলে মাদ্রাসা থেকে পাশ করা শিক্ষার্থীরা মূলধারার শিক্ষার্থীদের সমান সুযোগ পাবে এবং ভবিষ্যতের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আরও দক্ষ ও সক্ষম হয়ে উঠবে।
তিনি বলেন, ১ জুলাই থেকে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত হবে এবং তার সমস্ত দায়িত্ব গ্রহণ করবে উত্তরাখণ্ড স্টেট মাইনরিটি এডুকেশন অথরিটি। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছিল এবং মুসলিম শিশুদের শিক্ষার ক্ষেত্রে তা বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। এর পাঠ্যক্রম এতটাই পুরনো ও জটিল ছিল যে সাধারণ মানুষের পক্ষে তা বোঝা কঠিন ছিল। নতুন ব্যবস্থার লক্ষ্য মাদ্রাসা শিক্ষায় আরও বেশি স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং গুণগত উন্নয়ন নিশ্চিত করা।



















