নয়াদিল্লি, ৩০ জুন (আইএএনএস): মানবসম্পদের আন্তর্জাতিক চলাচলকে (মোবিলিটি) আন্তর্জাতিক সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে দেখে ভারত। এই অংশীদারিত্ব পারস্পরিক সুবিধা, যৌথ দায়বদ্ধতা এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্বের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে বলে মঙ্গলবার জানিয়েছেন বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর।
মঙ্গলবার হিউম্যান রিসোর্স মোবিলিটি ফোরামের উদ্বোধনী অধিবেশনে ভাষণ দিতে গিয়ে জয়শঙ্কর বলেন, নিরাপদ, সুশৃঙ্খল এবং বৈধ অভিবাসনের প্রতি ভারতের প্রতিশ্রুতিরই প্রতিফলন ২৬টি দেশের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ২৮টি ‘মাইগ্রেশন অ্যান্ড মোবিলিটি পার্টনারশিপ’ (এমএমপিএ) চুক্তি।
তিনি বলেন, “মানবসম্পদের চলাচল শুধু এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় মানুষের স্থানান্তর নয়। এটি মানুষের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সুযোগের সংযোগ ঘটায়, দক্ষতার সঙ্গে চাহিদার মিল ঘটায় এবং এমন একটি পথ তৈরি করে, যার মাধ্যমে মানুষ অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে অবদান রাখতে পারে। এর মূল উদ্দেশ্য অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি সামাজিক কল্যাণ নিশ্চিত করা।”
বিদেশমন্ত্রী বলেন, বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করাই ভারতের একমাত্র লক্ষ্য নয়। বরং ভারত এই মানবসম্পদ চলাচলকে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করে।
তিনি আরও বলেন, “সঠিকভাবে পরিচালিত হলে এই ধরনের অংশীদারিত্ব উৎস দেশ, গন্তব্য দেশ, নিয়োগকর্তা, কর্মী এবং সমাজ—সবার জন্যই মূল্য সৃষ্টি করে।”
জয়শঙ্কর জানান, ভারত ইতিমধ্যেই ২৬টি দেশের সঙ্গে ২৮টি মাইগ্রেশন ও মোবিলিটি পার্টনারশিপ চুক্তি বা সমতুল্য সমঝোতা করেছে এবং আরও কয়েকটি দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
অবৈধ অভিবাসন, প্রতারণামূলক দালালচক্র, শোষণমূলক কার্যকলাপ এবং মানবপাচারের বিরুদ্ধে একযোগে লড়াইয়ের ওপরও জোর দেন তিনি। তাঁর মতে, এসব কর্মকাণ্ড বৈধ অভিবাসন ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করে এবং অসহায় মানুষকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেয়।
বিদেশমন্ত্রী জানান, অভিবাসন ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বড় পরিবর্তন এনেছে। তিনি বলেন, “দুই বছর আগে চালু হওয়া ই-মাইগ্রেট ২.০ প্ল্যাটফর্ম আরও নিরাপদ, স্বচ্ছ ও বৈধ অভিবাসন ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ইতিমধ্যেই ৫০ লক্ষেরও বেশি অভিবাসন ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।”
তিনি বলেন, প্রবাসী ভারতীয়দের সুরক্ষা ও কল্যাণই ভারতের অভিবাসন নীতির মূল ভিত্তি। ইন্ডিয়ান কমিউনিটি ওয়েলফেয়ার ফান্ড (আইসিডব্লিউএফ), দ্রুত কনস্যুলার পরিষেবা, ‘মাদাদ’, ই-মাইগ্রেটসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বিদেশে ভারতীয়দের দ্রুত সহায়তা নিশ্চিত করছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির প্রসঙ্গ তুলে জয়শঙ্কর বলেন, ভবিষ্যতে বিশ্বজুড়ে শ্রমবাজারে বড় পরিবর্তন আসবে। সবুজ অর্থনীতির বিকাশে নতুন দক্ষতার চাহিদা তৈরি হবে, পাশাপাশি বয়স্ক জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে স্বাস্থ্য পরিষেবা ও পরিচর্যা খাতে কর্মীর চাহিদাও বাড়বে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, হিউম্যান রিসোর্স মোবিলিটি ফোরাম নীতিনির্ধারক, শিল্পপতি, নিয়োগকর্তা এবং বিশেষজ্ঞদের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় ও নতুন সহযোগিতার পথ তৈরি করবে এবং ভবিষ্যতের বৈশ্বিক মানবসম্পদ চলাচলকে আরও কার্যকর করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
























