আগরতলা, ৩০ জুন: চিকিৎসকদের প্রাইভেট চেম্বার বন্ধ থাকার প্রভাব এবার স্পষ্টভাবে পড়তে শুরু করেছে জিবি হাসপাতালে। মঙ্গলবার সকাল থেকেই হাসপাতালের বহির্বিভাগে (ওপিডি) উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। চিকিৎসার জন্য রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা রোগী ও তাঁদের পরিজনদের দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ মানুষ।
সবচেয়ে বেশি ভিড় লক্ষ্য করা যায় প্রসূতি বিভাগের (গাইনোকোলজি) ওপিডিতে। গর্ভবতী মহিলাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা গরমের মধ্যে লাইনে দাঁড়িয়ে চিকিৎসকের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যায়। তাঁদের সঙ্গে আসা পরিবারের সদস্যরাও একইভাবে ভোগান্তির শিকার হন। বসার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় অনেককেই দাঁড়িয়ে কিংবা মেঝেতে বসে অপেক্ষা করতে হয়।
রোগী ও তাঁদের পরিজনদের অভিযোগ, এত বিপুল সংখ্যক রোগীর চাপ সামাল দেওয়ার মতো পরিকাঠামো বর্তমানে হাসপাতালে নেই। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা, প্রচণ্ড ভিড় এবং গরমের কারণে অনেক অসুস্থ রোগীর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটছে। অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ডাক্তার দেখাতে এসে উল্টো আরও অসুস্থ হয়ে পড়তে হচ্ছে।
রোগীদের দাবি, অতীতে জিবি হাসপাতালে ভিড় থাকলেও এদিনের মতো পরিস্থিতি আগে খুব কমই দেখা গেছে। চিকিৎসকদের প্রাইভেট চেম্বার বন্ধ থাকায় এখন অধিকাংশ মানুষ বাধ্য হয়ে সরকারি হাসপাতালের ওপর নির্ভর করছেন। ফলে প্রতিদিনই রোগীর সংখ্যা অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে।
হাসপাতালের বিভিন্ন কাউন্টার, রেজিস্ট্রেশন বিভাগ এবং চিকিৎসকদের কক্ষের সামনেও দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। অনেক রোগীকেই চিকিৎসকের সঙ্গে দেখা করার জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে। এতে বিশেষ করে বয়স্ক, গর্ভবতী মহিলা, শিশু এবং গুরুতর অসুস্থ রোগীদের ভোগান্তি আরও বেড়েছে।
রোগী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, কাউন্টার এবং বসার ব্যবস্থা বাড়ানোর পাশাপাশি রোগীদের সুবিধার্থে জরুরি ভিত্তিতে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। অন্যথায় আগামী দিনে রোগীর চাপ আরও বাড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তাঁরা।



















