গান্ধীনগর, ২৭ জুন (আইএএনএস): কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সমবায়মন্ত্রী অমিত শাহ শনিবার গুজরাতে সমবায়ভিত্তিক রাইড-হেলিং প্ল্যাটফর্ম ‘ভারত ট্যাক্সি’-র আনুষ্ঠানিক সূচনা করলেন। একই সঙ্গে তিনি ঘোষণা করেন, ২০২৭ সালের মার্চের মধ্যে দেশের ১২৫টি শহর এবং ৩০টি প্রধান নগরকেন্দ্রে এই পরিষেবা চালু করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
গান্ধীনগরের মহাত্মা মন্দির কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র পটেল, রাজ্যের মন্ত্রিসভার সদস্য, সমবায় ক্ষেত্রের প্রতিনিধিরা এবং হাজার হাজার চালক, যাঁদের এই প্ল্যাটফর্মে ‘সারথি’ নামে অভিহিত করা হয়।
ভারত ট্যাক্সির চেয়ারম্যান এবং জিসিএমএমএফ-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর ড. জয়েন মেহতা বলেন, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হল চালকদের শুধু পরিষেবা প্রদানকারী নয়, মালিকানার অংশীদার হিসেবেও প্রতিষ্ঠা করা।
তিনি জানান, চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি চালু হওয়ার পর পাঁচ মাসেরও কম সময়ে প্রায় সাত লক্ষ ‘সারথি’ এই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হয়েছেন এবং অ্যাপে ৩৮ থেকে ৪০ লক্ষ গ্রাহক নিবন্ধন করেছেন। আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগেই গুজরাতে দেড় লক্ষের বেশি চালক এবং সাত লক্ষেরও বেশি গ্রাহক যুক্ত হয়েছেন।
ড. মেহতা বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যে ভারত ট্যাক্সি দেশের ৩০টি রাজ্যের রাজধানী, প্রধান নগরকেন্দ্র এবং ১২৫টিরও বেশি শহরে পরিষেবা সম্প্রসারণ করবে। তাঁর কথায়, “গ্রাহকের খরচ করা প্রতিটি টাকা যেন সরাসরি আমাদের সারথি ভাইদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছায়, সেটাই আমাদের লক্ষ্য।”
অনুষ্ঠানে গুজরাতে পরিষেবার পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করতে একাধিক সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্থার সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে গুজরাট মেট্রো রেল কর্পোরেশন, এয়ারপোর্টস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া, আদানি এয়ারপোর্ট হোল্ডিংস লিমিটেড, আহমেদাবাদ ডিভিশনের পশ্চিম রেল, আহমেদাবাদ পুরসভা এবং গুজরাত পুলিশের ট্রাফিক শাখা।
আয়োজকদের দাবি, এই অংশীদারিত্বের ফলে মেট্রো স্টেশন, রেলস্টেশন, বিমানবন্দর এবং শহুরে পরিবহণ ব্যবস্থার সঙ্গে ট্যাক্সি পরিষেবার সমন্বয় আরও সহজ হবে এবং চালকরাও উন্নত পরিষেবা ও সহায়তা পাবেন।
ভারত ট্যাক্সির দাবি, এই প্ল্যাটফর্ম সমবায় মালিকানার ভিত্তিতে পরিচালিত হয়, যেখানে চালকেরাই অংশীদার। পাশাপাশি হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে বিমানবন্দর বুকিং, সারথি সহায়তা কেন্দ্র, সদস্যপত্র ও কল্যাণমূলক কিট বিতরণ এবং স্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া-এর সহযোগিতায় স্বল্প সুদে গাড়ির ঋণের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এছাড়া পরিবেশবান্ধব পরিবহণ ব্যবস্থাকে উৎসাহ দিতে বৈদ্যুতিক গাড়ি প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলির সঙ্গেও চুক্তি করা হয়েছে।
প্রথম পর্যায়ে আহমেদাবাদ, গান্ধীনগর, সুরাট, ভাদোদরা, রাজকোট, আনন্দ, ভাবনগর, আমরেলি, মেহসানা, জামনগর এবং ভালসাদে এই পরিষেবা চালু হবে। পরবর্তী সময়ে গোটা গুজরাতে পরিষেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।























