আগরতলা, ২৫ জুন: ত্রিপুরার কৃষি ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে চলেছে। রাজ্যের কৃষি দপ্তর আগামী তিন বছরের মধ্যে কুইন আনারস চাষের এলাকা ১২ হাজার হেক্টর থেকে বাড়িয়ে ১৫ হাজার হেক্টরে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই সঙ্গে আগরতলা ও গোমতী জেলায় দুটি ব্রোমেলিন নিষ্কাশন কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে। আজ নয়াদিল্লিতে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন কৃষি ও কৃষক কল্যাণমন্ত্রী রতন লাল নাথ ।
তিনি জানান, আগামী ২৭ জুন থেকে আন্তর্জাতিক আনারস দিবস উদযাপনের সূচনা হবে। এই উপলক্ষ্যে ২৭ থেকে ২৯ জুন পর্যন্ত নয়াদিল্লির মেজর ধ্যানচাঁদ ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে “ত্রিপুরা গ্লোবাল পাইনঅ্যাপল ফেস্টিভাল ২০২৬।
মন্ত্রী আরও জানান, এই অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান , কেন্দ্রীয় ডোনার মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ডিয়া , দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা, ডোনার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার সহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি আমন্ত্রিত হয়েছেন।
ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা ও সংসদ সদস্যরাও এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। এই উৎসবের মূল লক্ষ্য শুধুমাত্র ত্রিপুরার আনারসকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া নয়, বরং পর্যটন, সংস্কৃতি, বাঁশ শিল্পসহ রাজ্যের সামগ্রিক সম্ভাবনাকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরা।
মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ত্রিপুরার রাজ্যের কৃষিক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে এবং ‘অ্যাক্ট ইস্ট পলিসি’র মাধ্যমে ত্রিপুরার মতো উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলি নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।
তিনি জানান এই তিন দিনের মহোৎসবে তিনজন কুইন আনারস চাষিকে বিশেষভাবে সম্মানিত করা হবে। পাশাপাশি মোট ২৫টি প্রদর্শনী স্টল থাকবে। ত্রিপুরার কুইন ও কিউ জাতের আনারস বিশ্ববিখ্যাত। ২০১৪ সালে কুইন আনারস জিআই ট্যাগ অর্জন করে এবং ২০১৮ সালে এটি রাজ্যের রাজ্যফল হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
মন্ত্রী বলেন বর্তমানে রাজ্যে প্রায় ১২ হাজার হেক্টর জমিতে আনারস চাষ হচ্ছে, যার বার্ষিক উৎপাদন প্রায় ১.৭৮ লক্ষ মেট্রিক টন। সরকারের লক্ষ্য আন্তর্জাতিক বাজারে কুইন আনারসের একটি শক্তিশালী বাজার গড়ে তোলা, যাতে কৃষকেরা সরাসরি আর্থিকভাবে উপকৃত হন। এই উদ্দেশ্যে কেন্দ্র ও ডোনার মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় ২৩৪ কোটি টাকার একটি প্রকল্পও গ্রহণ করা হয়েছে, যার মাধ্যমে বিপণন ও প্রক্রিয়াকরণ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা হবে।
এছাড়াও আগরতলা ও গোমতীতে দুটি ব্রোমেলিন নিষ্কাশন কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে, যা আনারস থেকে মূল্য সংযোজন পণ্য উৎপাদনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে।
এই সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যসভার সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য, কৃষি ও কৃষক কল্যাণ দপ্তরের সচিব অপূর্ব রায়, উদ্যানপালন দপ্তরের অধিকর্তা ফণিভূষণ জমাতিয়া এবং ত্রিপুরা অর্গানিক মিশনের মিশন ডিরেক্টর রাজীব দেববর্মা।























