আগরতলা, ২৫ জুন: সরকারের উন্নয়নের দাবির বিপরীতে উত্তর ত্রিপুরার পানিসাগর বিধানসভার অন্তর্গত উত্তর পদ্মবিল ও দক্ষিণ পদ্মবিল গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দারা দীর্ঘদিন ধরে চরম যোগাযোগ সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। ভাঙাচোরা রাস্তা ও জরাজীর্ণ একটি স্টিলের সেতু ভরসা করে প্রতিদিন যাতায়াত করতে হচ্ছে প্রায় ৪৫০টি পরিবারের হাজারো মানুষকে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জলাবাজার থেকে বড়বাজার পর্যন্ত সংযোগকারী এই রাস্তা বহু বছর ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। পাশাপাশি এলাকার একমাত্র ভরসা পুরনো স্টিল বা রেলওয়ে সেতুটি বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সেতুর বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, উত্তর ও দক্ষিণ পদ্মবিল এলাকার প্রায় ২০০ জনেরও বেশি ছাত্র-ছাত্রী প্রতিদিন এই বিপজ্জনক সেতু পার হয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করছে। স্থানীয় অভিভাবকদের অভিযোগ, সেতুর অবস্থা এতটাই খারাপ যে ছোট শিশুদের একা পার হতে দেওয়া সম্ভব নয়। ফলে প্রতিদিন অভিভাবকদের সন্তানদের হাত ধরে সেতু পার করিয়ে বিদ্যালয়ে পৌঁছে দিতে হচ্ছে।
শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, জরুরি চিকিৎসা পরিষেবাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ। কোনো গর্ভবতী মহিলা বা গুরুতর অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হলে অ্যাম্বুল্যান্স ওই এলাকায় পৌঁছাতে পারে না। বাধ্য হয়ে রোগীদের কাঁধে কিংবা টুকরিতে করে বিপজ্জনক সেতু পার করিয়ে চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যেতে হয়।
এলাকাবাসীর দাবি, রাস্তা ও সেতুর দুরবস্থার বিষয়ে বহুবার প্রশাসন এবং জনপ্রতিনিধিদের অবগত করা হলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বর্ষাকালে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে এবং দুর্ভোগ কয়েকগুণ বৃদ্ধি পায়।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, উন্নয়নের এত দাবি-দাওয়ার মধ্যেও কেন উত্তর ও দক্ষিণ পদ্মবিলের মানুষ এখনও নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থার সুযোগ থেকে বঞ্চিত? তাদের দাবি, অবিলম্বে ভাঙা রাস্তার পূর্ণাঙ্গ সংস্কার এবং ঝুঁকিপূর্ণ সেতুর পরিবর্তে একটি স্থায়ী ও নিরাপদ সেতু নির্মাণ করা হোক, যাতে ভবিষ্যতে কোনো দুর্ঘটনা বা প্রাণহানির ঘটনা না ঘটে।


















