নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ২৪ জুন: রাজ্যের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী কিশোর বর্মন আজ কলকাতায় পশ্চিমবঙ্গের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে এক বৈঠকে মিলিত হন। কলকাতার বিকাশ ভবনে আয়োজিত এই বৈঠকে ত্রিপুরার ছাত্রছাত্রীদের উচ্চশিক্ষার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা হয়।
সম্প্রতি ত্রিপুরা উইমেন্স পলিটেকনিকের ফ্যাশন টেকনোলজি বিভাগের ছাত্রীরা পশ্চিমবঙ্গের ডব্লিউবিজেইএলইটি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও অনলাইন কাউন্সেলিংয়ের প্রথম পর্যায়ে গভর্মেন্ট কলেজ অফ ইঞ্জিনিয়ার এ্যান্ড টেক্সটাইল টেকনোলজি, শ্রীরামপুর এবং বহরমপুর-এর মতো টেক্সটাইল ও অ্যাপারেল প্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট কলেজগুলির নাম চয়েস ফিলিং তালিকায় দেখতে পাচ্ছেন না। যোগ্য ছাত্রছাত্রীরা ভর্তি প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
ত্রিপুরা সরকারের উচ্চশিক্ষা দপ্তর বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে পশ্চিমবঙ্গ জয়েন্ট এন্ট্রান্স এক্সামিনেশনস বোর্ডের নিকট ২০/১২/২০২৫ এ আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তক্ষেপের আবেদন জানায়।
বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গের উচ্চশিক্ষা মন্ত্রীর কাছে বিষয়টি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয় এবং জানানো হয় যে, অতীতে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রকৌশল ও প্রযুক্তি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ত্রিপুরার ছাত্রছাত্রীদের জন্য সংরক্ষিত আসনের ব্যবস্থা ছিল, যার মাধ্যমে বহু শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার সুযোগ পেয়েছেন। কিন্তু বিগত তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে সেই সুযোগ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়, ফলে ত্রিপুরার মেধাবী ছাত্রছাত্রীরা ক্ষতিগ্রস্ত হন।
বৈঠকে পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রী বিষয়টির প্রতি ইতিবাচক মনোভাব প্রদর্শন করেন এবং আশ্বাস দেন যে, ত্রিপুরার ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থে পশ্চিমবঙ্গের সরকারি প্রযুক্তি ও প্রকৌশল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে পূর্বের সংরক্ষিত আসন ব্যবস্থা পুনরায় চালু করার বিষয়টি দ্রুত বিবেচনা করা হবে। পাশাপাশি চলতি শিক্ষাবর্ষে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের সমস্যারও দ্রুত সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
ত্রিপুরা ও পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে শিক্ষা ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক এবং আন্তঃরাজ্য সহযোগিতার ঐতিহ্য রয়েছে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ত্রিপুরার বহু ছাত্রছাত্রী উন্নত প্রযুক্তিগত শিক্ষার সুযোগ লাভ করবে এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মানবসম্পদ উন্নয়নে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ত্রিপুরার ছাত্রছাত্রীদের ন্যায্য অধিকার ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এই বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগ ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

















