কদমতলা, ২৪ জুন: উত্তর ত্রিপুরার কদমতলা ব্লকের অন্তর্গত কালাগাঙ্গেরপার গ্রাম পঞ্চায়েতে রাস্তা মেরামত ও উন্নয়নমূলক কাজের নামে ব্যাপক অনিয়ম এবং সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, বিভিন্ন প্রকল্পে লক্ষাধিক টাকার এস্টিমেট ও ওয়ার্ক অর্ডার জারি করা হলেও বাস্তবে কাজের পরিমাণ অত্যন্ত সীমিত এবং অনেক ক্ষেত্রেই অসম্পূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিপিআই(এম) পরিচালিত কালাগাঙ্গেরপার গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ব্রিক সোলিং রাস্তা মেরামতের জন্য প্রায় ৩ লক্ষ ৩৫ হাজার ৮৯ টাকার প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ, বরাদ্দ অর্থের অধিকাংশই যথাযথভাবে কাজে ব্যয় করা হয়নি। অভিযোগ অনুযায়ী, গ্রাম পঞ্চায়েতের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে পঞ্চায়েত প্রধানের বাড়ির সামনে দিয়ে যাওয়া ব্রিক সোলিং রাস্তা সংস্কারের জন্য প্রায় ৪ হাজার ইট বরাদ্দ করা হলেও বাস্তবে মাত্র ১,২০০টির মতো ইট ব্যবহার করে কাজ সম্পন্ন দেখানো হয়েছে।
একইভাবে, ৬ নম্বর ওয়ার্ডে রানীবাড়ি রোড থেকে আজির উদ্দিনের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ২০০ মিটার রাস্তা সংস্কারের কাজ এখনও অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে বলে অভিযোগ। এছাড়াও ৫ নম্বর ওয়ার্ডে কালাগাঙ্গেরপার উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে মইনুল হকের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ৩০০ মিটার রাস্তা মেরামতের কাজও পুরোপুরি শেষ না করেই বরাদ্দ অর্থ ব্যয়ের হিসাব দেখানো হয়েছে বলে দাবি এলাকাবাসীর।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গ্রাম পঞ্চায়েতের একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পে বড় অঙ্কের এস্টিমেট ও ওয়ার্ক অর্ডার দেখিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকার অনিয়ম সংঘটিত হচ্ছে। বিষয়টি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট ব্লক প্রশাসনের নজরে আনা হলেও এখনও পর্যন্ত কোনও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।
এলাকাবাসীরা অবিলম্বে পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে তারা বলেন, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য সামনে এনে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে এবং উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত শুরু হলে প্রকৃত ঘটনা সামনে আসবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।


















