বিশালগড়, ২৪ জুন: দীর্ঘদিন ধরে সরকারি জমি দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করতে গিয়ে বুধবার উত্তপ্ত হয়ে উঠল কমলা সাগর বিধানসভার মধুপুর বাজার এলাকা। দখলমুক্তকরণ অভিযানে নেতৃত্ব দিতে এসে বাধার সম্মুখীন হন ডিসিএম প্রসেনজিৎ দাস সহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিকরা। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয় এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, মধুপুর বাজারে দীর্ঘদিন ধরে প্রায় ১১৫টি দোকান সরকারি জমি ও ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল। ফলে বাজার এলাকায় যানবাহন চলাচল, সাধারণ মানুষের যাতায়াত এবং জরুরি পরিষেবার কাজে চরম বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশও দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আসছিলেন।
উচ্ছেদ অভিযানের সময় ব্যবসায়ীদের একাংশ ক্ষোভ প্রকাশ করে দাবি করেন যে, তাদের আগে থেকে যথাযথভাবে অবহিত করা হয়নি। তবে এই অভিযোগ খারিজ করে ডিসিএম জানান, সংশ্লিষ্ট দোকান মালিকদের ইতিমধ্যেই পরপর দুই দফায় নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। নোটিশ পাওয়ার পরও সরকারি জমি দখলমুক্ত করার কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলেও তিনি দাবি করেন।
এদিকে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হতেই বাজার এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ব্যবসায়ীরা একত্রিত হয়ে প্রশাসনের কাছে কিছুটা সময় চেয়ে আবেদন জানান। তাঁদের বক্তব্য, হঠাৎ করে দোকান সরিয়ে ফেললে আর্থিকভাবে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। পরে ব্যবসায়ীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রশাসনের দীর্ঘ আলোচনা হয়।
আলোচনার পর ডিসিএম জানান, মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ব্যবসায়ীদের শেষ সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। ফুটপাতের উপর গড়ে ওঠা অস্থায়ী দোকান ও কাঠামো আগামী তিন দিনের মধ্যে সরিয়ে ফেলতে হবে। অন্যদিকে স্থায়ী নির্মাণ বা বিল্ডিং আকারে থাকা দোকানগুলিকে সাত দিনের মধ্যে নিজ দায়িত্বে ভেঙে ফেলতে হবে। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে নির্দেশ পালন না করা হলে প্রশাসন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
ডিসিএম আরও স্পষ্ট ভাষায় জানান, আগামী সাত দিনের মধ্যে সরকারি জমি সম্পূর্ণ দখলমুক্ত না হলে প্রশাসন বুলডোজার ব্যবহার করে সমস্ত অবৈধ নির্মাণ ভেঙে ফেলবে। সরকারি সম্পত্তি দখলমুক্ত করার ক্ষেত্রে কোনওরকম আপস করা হবে না বলেও তিনি সতর্ক করে দেন।
প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। একদিকে ব্যবসায়ীরা পুনর্বাসন ও অতিরিক্ত সময়ের দাবি তুলছেন, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের একাংশ বাজারের যানজট ও দীর্ঘদিনের দখলদারিত্বের সমস্যা দূর করতে প্রশাসনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। এখন নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে ব্যবসায়ীরা প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলেন কি না, সেদিকেই নজর রয়েছে সকলের।



















