আগরতলা, ২৪ জুন,: বিশালগড় মহকুমার টাকারজলা এলাকায় এক গ্রামীণ মহিলার ওপর সংঘটিত নৃশংস নির্যাতনের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ত্রিপুরা প্রদেশ মহিল কংগ্রেস। এক সাংবাদিক সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির পাশাপাশি নারী নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। সংগঠনের অভিযোগ, টাকারজলায় সংঘটিত এই বর্বরোচিত ঘটনা অতীতের বহু নৃশংস ঘটনাকেও হার মানিয়েছে এবং প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা অপরাধীদের উৎসাহিত করছে।
মহিলা কংগ্রেসের দাবি, গত ১৮ জুন টাকারজলা থানা এলাকার এক গ্রামীণ মহিলাকে চরিত্রহননের অভিযোগ তুলে স্থানীয় একটি সালিশি সভার মাধ্যমে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে মাঠের মধ্যে মারধর করা হয়। পরে একদল দুষ্কৃতী তাঁর বাড়িতে ঢুকে শারীরিক নির্যাতন চালায়। অভিযোগ, এই হামলায় কয়েকজন মহিলা-সহ একাধিক ব্যক্তি জড়িত ছিল। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই মহিলাকে জিবিপি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে তাঁর শরীরে জটিল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি করেছে সংগঠন।
মহিলা কংগ্রেস অভিযোগ করে, এত বড় ঘটনার পরও টাকারজলা থানার পুলিশ যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। নির্যাতিতার পরিবারের অভিযোগকে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি এবং মূল অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণেও গড়িমসি করা হচ্ছে। সংগঠনের আরও অভিযোগ, শাসকদল ও স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে অভিযুক্তরা সাহস পাচ্ছে এবং নির্যাতিতার পরিবারকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
ত্রিপুরা প্রদেশ মহিলা কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, ঘটনার কয়েকদিন পেরিয়ে গেলেও রাজ্য মহিলা কমিশন, প্রশাসন কিংবা শাসক দলের পক্ষ থেকে নির্যাতিতা পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর মতো কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।
সংগঠনের সভাপতি শর্বাণী ঘোষ চক্রবর্তী একাধিক দাবি তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনার মূল অভিযুক্ত টিটন আলী-সহ হরলাল সূত্রধর, মনিকা সূত্রধর, রোকেয়া বেগম, রহিমা খাতুন এবং দুলালকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে। পাশাপাশি টাকারজলা থানার ওসি রথীন দেববর্মার বিরুদ্ধে দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করে তাঁকে অপসারণের দাবি জানানো হয়েছে।
এছাড়াও, জিবিপি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নির্যাতিতা মহিলার সম্পূর্ণ চিকিৎসার ব্যয় রাজ্য সরকারকে বহন করতে হবে এবং তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে। ত্রিপুরা রাজ্য মহিলা কমিশনকে স্বতঃপ্রণোদিতভাবে (সুয়ো মোটো) এই ঘটনার তদন্তে হস্তক্ষেপ করার আহ্বানও জানানো হয়েছে।
মহিলা কংগ্রেস হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মূল অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার এবং অভিযুক্ত পুলিশ আধিকারিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে সারা রাজ্যজুড়ে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, উপরোক্ত সমস্ত অভিযোগ ও দাবি ত্রিপুরা প্রদেশ মহিলা কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সাংবাদিক সম্মেলনে উত্থাপন করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি।



















