নিজস্ব প্রতিনিধি, ধর্মনগর, ২৪ জুন : ধর্মনগর শহরের ব্যস্ততম সেন্ট্রাল রোডে অবস্থিত একটি দীর্ঘদিনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ এবং বকেয়া অর্থ আদায়ের নির্দেশ দিয়েছে ধর্মনগর সিভিল আদালত। আদালতের জারি করা চূড়ান্ত পরোয়ানায় দোকানঘর খালি করার পাশাপাশি প্রায় ৯৬ হাজার টাকা পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ধর্মনগরের সিভিল জজ (জুনিয়র ডিভিশন) আদালত একটি টাইটেল স্যুট মামলার রায়ে এই নির্দেশ জারি করে। সেন্ট্রাল রোডের বাসিন্দা কোহিনূর রায়ের দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে ‘ওয়ারেন্ট ফর পজিশন’ বা দখল পুনরুদ্ধারের পরোয়ানা জারি করা হয়।
পরোয়ানার আওতায় সেন্ট্রাল রোডে অবস্থিত ‘মেসার্স নিউ পাদুকালয়’ নামের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালতের নথি অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির সত্ত্বাধিকারী হিসেবে সুকুমার দেবনাথের নাম উল্লেখ রয়েছে। আদালতের নির্দেশ অনুসারে, প্রায় ০.০২১ একর জমির ওপর নির্মিত দোকানঘরটি খালি করে প্রকৃত মালিক তথা ডিক্রিদারের কাছে দখল বুঝিয়ে দিতে হবে। একই সঙ্গে বকেয়া ভাড়া, সুদ এবং মামলার খরচ বাবদ মোট ৯৫ হাজার ৫৬৩ টাকা আদায়ের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
আদালতের হিসাব অনুযায়ী, বকেয়া ভাড়া বাবদ ৭৮ হাজার ৫০০ টাকা, অর্জিত সুদ ৪ হাজার ৭১০ টাকা এবং মামলার খরচ ১২ হাজার ৩৫৩ টাকা। সব মিলিয়ে মোট প্রদেয় অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯৫ হাজার ৫৬৩ টাকা।
বুধবার আদালতের নির্দেশ কার্যকর করতে নিযুক্ত কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে দোকানঘরটি তালাবদ্ধ করে দেন এবং আদালতের নোটিশ ঝুলিয়ে দেন। এ সময় ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় কৌতূহল ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
জায়গার মালিক কোহিনূর রায় বলেন, “আইনের প্রতি আমার পূর্ণ বিশ্বাস ছিল। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর সত্যের জয় হয়েছে। এজন্য আমি আদালতের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। পাশাপাশি যাঁরা আমাকে সহযোগিতা করেছেন তাঁদের সকলকে ধন্যবাদ জানাই।”
আদালত স্পষ্ট করেছে, জারি করা নির্দেশ বাস্তবায়নে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি করা হলে অথবা আইন অমান্যের ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ধর্মনগরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকায় সংঘটিত এই ঘটনাকে ঘিরে ব্যবসায়ী মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। আদালতের এই পদক্ষেপ ভবিষ্যতে ভাড়াটিয়া ও সম্পত্তি-সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ নজির হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। এই মামলাটি পরিচালনা করেছেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট ঋষিকেশ নাথ এবং উনার সহযোগীরা।
























