তেহরান, ২৪ জুন (আইএএনএস): ইরানের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও ভারতীয় নাগরিকদের আপাতত অপ্রয়োজনীয় সফর এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে ভারত সরকার। বুধবার তেহরানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস একটি সংশোধিত ভ্রমণ পরামর্শ (ট্রাভেল অ্যাডভাইজরি) জারি করে এই নির্দেশনা দেয়।
দূতাবাস জানিয়েছে, তারা ইরানের নিরাপত্তা পরিস্থিতির উপর নিবিড় নজর রাখছে এবং সাম্প্রতিক দিনে পরিস্থিতির কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি ভারতীয় দূতাবাস নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। সাম্প্রতিক ইতিবাচক অগ্রগতি এবং সামগ্রিক পরিস্থিতির উন্নতির প্রেক্ষিতে ইরান সফরের কথা ভাবছেন এমন ভারতীয় নাগরিকদের জন্য এই সংশোধিত পরামর্শ জারি করা হচ্ছে।”
তবে পরিস্থিতির উন্নতি হলেও দূতাবাস স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ভারতীয়দের সব ধরনের অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলা উচিত।
দূতাবাসের পরামর্শ অনুযায়ী, বর্তমানে ইরানে অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিক এবং যাদের জরুরি কারণে সেখানে যেতে হতে পারে, তাঁদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। পাশাপাশি সর্বদা পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন থাকতে এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলতে বলা হয়েছে।
ভারতীয় নাগরিকদের নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে স্থানীয় পরিস্থিতির খবরাখবর অনুসরণ করারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া ইরানে অবস্থানরত এবং ভবিষ্যতে সেখানে যাত্রা করতে ইচ্ছুক সব ভারতীয় নাগরিককে দ্রুত তেহরানের ভারতীয় দূতাবাসে নিজেদের তথ্য নথিভুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
দূতাবাস জানিয়েছে, নাগরিকদের নিয়মিতভাবে দূতাবাসের সরকারি ওয়েবসাইট এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজ অনুসরণ করা উচিত, যাতে নতুন কোনও নির্দেশিকা বা সতর্কতা জারি হলে তা দ্রুত জানা যায়।
জরুরি প্রয়োজনে সহায়তার জন্য দূতাবাস কয়েকটি হেল্পলাইন নম্বরও প্রকাশ করেছে:
+৯৮৯১২৮১০৯১১৫, +৯৮৯১২৮১০৯১০৯, +৯৮৯১২৮১০৯১০২ এবং +৯৮৯৯৩২১৭৯৩৫৯।
উল্লেখ্য, ১৭ জুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান দূরবর্তীভাবে একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন, যার মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি আরও ৬০ দিনের জন্য বাড়ানো হয় এবং চূড়ান্ত চুক্তির শর্ত নিয়ে আলোচনার পথ খুলে যায়।
এই সমঝোতার ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রায় চার মাসের সংঘাতের অবসান ঘটে এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে আলোচনার নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়।
ভারত সরকারও এই সমঝোতাকে স্বাগত জানিয়েছে। বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, পশ্চিম এশিয়ায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও নৌ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সংলাপই একমাত্র পথ।
ভারতের মতে, চলমান উত্তেজনা কমাতে এবং সংঘাতের দ্রুত অবসান ঘটাতে কূটনীতি, সংলাপ ও উত্তেজনা প্রশমনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।



















