নয়াদিল্লি/কোচি, ২৩ জুন (আইএএনএস) : কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জর্জ কুরিয়ান-এর রাজ্যসভার মেয়াদ নবীকরণ না করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর কেরল থেকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় নতুন কোনও প্রতিনিধি আসবেন কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে। রাজ্যসভার সদস্যপদের মেয়াদ শেষ হওয়ায় মঙ্গলবার জর্জ কুরিয়ান তাঁর পদত্যাগপত্র জমা দেন এবং রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু তা গ্রহণ করেন।
দলীয় সূত্রের খবর, কুরিয়ান আবার সাংগঠনিক দায়িত্বে ফিরতে পারেন। তিনি কেরলে সক্রিয়ভাবে কাজ করার আগ্রহও প্রকাশ করেছেন। তবে তাঁকে জাতীয় স্তরে নাকি রাজ্য সংগঠনে কোনও দায়িত্ব দেওয়া হবে, সে বিষয়ে এখনও বিজেপি স্পষ্ট কিছু জানায়নি।
১৯৮০ সালে বিজেপি গঠনের সময় থেকেই দলের সঙ্গে যুক্ত কুরিয়ানকে ২০২৪ সালের জুন মাসে নরেন্দ্র মোদি-র তৃতীয় মন্ত্রিসভায় মৎস্য, পশুপালন ও দুগ্ধ উন্নয়ন এবং সংখ্যালঘু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। তাঁর মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্তি অনেককেই বিস্মিত করেছিল, কারণ তখন তিনি সংসদের কোনও কক্ষেরই সদস্য ছিলেন না। পরে ২০২৪ সালের আগস্টে মধ্যপ্রদেশ থেকে তাঁকে রাজ্যসভায় মনোনীত করা হয়। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া লোকসভা নির্বাচনে জয়ী হয়ে রাজ্যসভা থেকে পদত্যাগ করায় আসনটি শূন্য হয়েছিল।
বিজেপি তাঁর রাজ্যসভার মেয়াদ না বাড়ানোয় কুরিয়ান কেরলের চতুর্থ বিজেপি নেতা হিসেবে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা থেকে বিদায় নিলেন, যিনি দ্বিতীয়বার সুযোগ পাননি। এর আগে বিজেপি একই কৌশল অনুসরণ করে কেরলের নেতাদের রাজ্যসভার মাধ্যমে সংসদে এনে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় জায়গা দিয়েছিল। প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও. রাজাগোপাল, কে. জে. আলফন্স এবং ভি. মুরলীধরন-ও রাজ্যসভার সদস্য হওয়ার পর মন্ত্রীত্ব পেয়েছিলেন।
সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করা কুরিয়ান বিজেপির রাজ্য সহ-সভাপতি, জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য, কোর কমিটির সদস্য এবং মুখপাত্রসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া রাজাগোপাল কেন্দ্রীয় মন্ত্রী থাকাকালীন তিনি বিশেষ দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক (ওএসডি) হিসেবেও কাজ করেছিলেন।
তবে কেরলে তাঁর নির্বাচনী সাফল্য অধরাই থেকে যায়। সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে কাঞ্জিরাপল্লি আসনসহ একাধিকবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও তিনি জয় পাননি। বর্তমানে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় কেরল থেকে বিজেপির একমাত্র প্রতিনিধি হলেন অভিনেতা-থেকে-রাজনীতিক সুরেশ গোপী, যিনি ত্রিশূর লোকসভা কেন্দ্র থেকে ঐতিহাসিক জয় অর্জন করেছিলেন।
এখন রাজনৈতিক মহলের নজর বিজেপির কেরল থেকে মনোনীত রাজ্যসভার সদস্য সি. সদানন্দন মাস্টার-এর দিকে। তাঁকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে, নাকি মোদি মন্ত্রিসভায় কেরলের প্রতিনিধিত্ব এক সদস্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।



















