কলকাতা, ২৩ জুন (আইএএনএস): পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার দাবি করা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের ‘বিদ্রোহী’ গোষ্ঠী চলতি বাজেট অধিবেশন শেষ হওয়ার পরই ভারত নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হতে চলেছে। দলের নতুন জাতীয় কার্যকরী কমিটি (এনডব্লিউসি)-র বৈধতা দাবি করাই হবে তাদের মূল উদ্দেশ্য।
এই নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাদ দিয়ে।
সোমবার ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় নতুন জাতীয় কার্যকরী কমিটি গঠনের ঘোষণা করার পরপরই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-অনুগত তৃণমূলের গোষ্ঠী নির্বাচন কমিশনের কাছে একটি চিঠি পাঠায়। সেখানে তারা দলের ‘মূল’ জাতীয় কার্যকরী কমিটির বিবরণ জমা দেয়, যেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জাতীয় চেয়ারপার্সন এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিদ্রোহী শিবিরের এক বিধায়ক জানিয়েছেন, বাজেট অধিবেশন শেষ হওয়ার পর তাঁরাও নির্বাচন কমিশনের কাছে যাবেন এবং দলের অভ্যন্তরে সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থনের ভিত্তিতে গঠিত নতুন কমিটির বৈধতা দাবি করবেন।
ওই বিধায়কের দাবি, “সোমবার যে বৈঠকে নতুন জাতীয় কার্যকরী কমিটি গঠন করা হয়েছে, সেখানে উপস্থিত নেতাদের প্রকৃত স্বাক্ষর-সহ একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। সেই প্রস্তাবই একটি বৈধ আইনি নথি এবং তার ভিত্তিতেই আমরা নতুন কমিটির স্বীকৃতি দাবি করব।”
সোমবার ঘোষিত নতুন জাতীয় কার্যকরী কমিটিতে তৃণমূলের প্রবীণ বিধায়ক ও প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ রায়-কে চেয়ারম্যান করা হয়েছে। তিনি এই পদে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন।
এছাড়া প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস-কে সহ-চেয়ারম্যান করা হয়েছে। তাঁর সঙ্গে একই পদে রয়েছেন বিধায়ক ফিরহাদ হাকিম এবং রথীন ঘোষ।
নতুন কমিটিতে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, জাভেদ খান, সন্দীপন সাহা এবং সাবিনা ইয়াসমিন-কে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। কোষাধ্যক্ষ পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আখরুজ্জামান-কে।
তৃণমূল কংগ্রেসের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংগঠনের প্রকৃত নেতৃত্ব ও নির্বাচনী প্রতীকের অধিকার নিয়ে টানাপোড়েনের জেরে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে জল্পনা আরও তীব্র হয়েছে। এখন নির্বাচন কমিশন এই বিরোধের বিষয়ে কী অবস্থান নেয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।



















