লখনউ/নয়াদিল্লি, ২৩ জুন (আইএএনএস): উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ের আলিগঞ্জ এলাকার একটি বাণিজ্যিক ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মৃত ১৮ জনের মধ্যে ১৫ জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে বলে মঙ্গলবার জানিয়েছে প্রশাসন। নিহতদের পরিবারের সঙ্গে ইতিমধ্যেই যোগাযোগ করা হয়েছে।
প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে রয়েছেন শাহজান, সুখমনি সিং, আদিত্য শ্রীবাস্তব, জ্বানিল চক্রবর্তী, সাগর পন্থ, নিলেশ, সয়্যম, ভবিষ্য, জ্যোতি, আব্দুল রহমান, অনামিকা সামন্ত, সুরজ সিং, মহম্মদ আম্মার এবং তীজরাজ — এঁরা সকলেই লখনউয়ের বাসিন্দা। এছাড়া পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসিন্দা সোমাল্যরও মৃত্যু হয়েছে।
জানা গিয়েছে, অধিকাংশ মৃতের বয়স ২০ থেকে ২৪ বছরের মধ্যে।
অগ্নিকাণ্ডে আহত দুই ব্যক্তির পরিচয়ও জানা গেছে। লাভপ্রীত ও জয়ন্ত নামে ওই দুই যুবক বর্তমানে লখনউয়ের কিং জর্জ মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটিতে চিকিৎসাধীন।
এদিকে, ঘটনায় দায়ের হয়েছে এফআইআর। বাণিজ্যিক ভবনের মালিক-সহ মোট ছয়জনের বিরুদ্ধে আলিগঞ্জ থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ১০৫, ১১০, ১২৫ এবং ৩(৫) ধারায় মামলা রুজু হয়েছে।
পুলিশ ইতিমধ্যে ভবনের তিন মালিক — রামকৃষ্ণ উপাধ্যায়, বীরেন্দ্র প্রসাদ শুক্লা এবং তুষাঙ্ক কৃষ্ণ জয়সওয়ালকে গ্রেফতার করেছে। পরে স্টুডিও অপারেটর সুরেশ কুমার সাহুকেও গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পুরানিয়া চৌরাহার কাছে সেক্টর-ডি এলাকার তিনতলা ভবনটিতে নিচতলা ও প্রথম তলায় একটি পোষ্যপশুর দোকান ও ক্লিনিক, দ্বিতীয় তলায় ভিডিও গেমিং জোন ও থ্রিডি অ্যানিমেশন সেন্টার এবং তৃতীয় তলায় একটি আইটি নেটওয়ার্কিং অফিস ছিল।
সোমবার দুপুর প্রায় আড়াইটে নাগাদ পোষ্যপশুর দোকান ও ক্লিনিকে আগুন লাগে বলে অভিযোগ। মুহূর্তের মধ্যে ঘন ধোঁয়ায় পুরো ভবন ভরে যায়। দোকানে আটকে থাকা বহু প্রাণীরও মৃত্যু হয়েছে।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ভবনটিতে পর্যাপ্ত অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না। জরুরি অবস্থায় বেরিয়ে যাওয়ার কোনও পৃথক পথও ছিল না। ধোঁয়া বেরোনোর ব্যবস্থা এবং নিরাপদ বৈদ্যুতিক পরিকাঠামোরও অভাব ছিল বলে অভিযোগ।
এদিকে, মৃতদের পরিবার প্রশাসনিক গাফিলতির অভিযোগ তুলেছে। নিহত ২৮ বছর বয়সি সয়্যম বিজের মামা গৌরব জানান, সোমবার রাত সাড়ে আটটা থেকে ন’টার মধ্যে তাঁরা দুর্ঘটনার খবর পান। সয়্যম গত পাঁচ বছর ধরে অ্যানিমেশন শিল্পে কাজ করতেন এবং প্রতি সপ্তাহান্তে বাড়ি ফিরতেন।
তিনি বলেন, “আগামীকালই ওর বাড়ি ফেরার কথা ছিল। পরিবারের এক প্রবীণ সদস্যের মৃত্যুর কারণে বাড়িতে শোকের পরিবেশ ছিল।”
পরিবারের আরেক সদস্য অভিযোগ করেন, “ভবনটিতে সঠিক সিঁড়ি বা অগ্নিকাণ্ডের সময় বেরিয়ে যাওয়ার বিকল্প পথ ছিল না। এই ধরনের পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানটি কীভাবে চালু ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।”
অন্যদিকে, নিহত ২৫ বছর বয়সি সুরজভান সিংয়ের ভাই সুধীর জানান, শর্ট সার্কিটের কারণে আগুন লাগার কথা তাঁদের জানানো হয়েছে, তবে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তথ্য এখনও তাঁদের কাছে নেই।
পুলিশ জানিয়েছে, অগ্নি-নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন এবং অন্যান্য গাফিলতির কারণে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
(আইএএনএস)
























