নয়াদিল্লি, ২৩ জুন (আইএএনএস): শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁকে শ্রদ্ধা জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মঙ্গলবার সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ (পূর্বতন টুইটার) প্রধানমন্ত্রী তাঁকে একজন বিশিষ্ট দেশপ্রেমিক, শিক্ষাবিদ ও রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, দেশের উন্নয়নের জন্য তাঁর অবদান ও আত্মত্যাগ আজও প্রজন্মের পর প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করে।
প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, “বলিদান দিবসে আমি ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। তিনি ছিলেন এক বিশিষ্ট দেশপ্রেমিক, শিক্ষাবিদ ও রাষ্ট্রনায়ক, যিনি ভারতের উন্নয়নের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। জনজীবনে তাঁর অটল বিশ্বাস, সাহস এবং জাতীয় স্বার্থের প্রতি অঙ্গীকার আজও অনুপ্রেরণার উৎস। তাঁর আত্মত্যাগ আমাদের সম্মিলিত স্মৃতিতে অমলিন। তাঁর আদর্শ অনুসরণ করে শক্তিশালী ও উন্নত ভারত গড়ার অঙ্গীকার আমরা পুনর্ব্যক্ত করছি।”
১৯০১ সালের ৬ জুলাই কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বকনিষ্ঠ উপাচার্য হিসেবে ১৯৩৪ থেকে ১৯৩৮ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। স্বাধীনতার পর তিনি জওহরলাল নেহরুর মন্ত্রিসভায় দেশের প্রথম শিল্প ও সরবরাহ মন্ত্রী হিসেবে কাজ করেন। পরে মতাদর্শগত মতপার্থক্যের কারণে মন্ত্রিসভা থেকে ইস্তফা দিয়ে ১৯৫১ সালে ভারতীয় জনসংঘ প্রতিষ্ঠা করেন, যা পরবর্তীকালে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) ভিত্তি হয়ে ওঠে।
জাতীয়তাবাদ, সাংস্কৃতিক পরিচয়, আত্মনির্ভরতা এবং জাতীয় সংহতির পক্ষে তাঁর অবস্থান স্বাধীনোত্তর ভারতের রাজনৈতিক পরিসরে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছিল। কাশ্মীর ইস্যু, পাকিস্তান নীতি এবং ধর্মনিরপেক্ষতার প্রশ্নে নেহরু সরকারের সঙ্গে তাঁর মতবিরোধ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
এদিকে, দিল্লিতে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত, দিল্লি বিজেপি সভাপতি হর্ষ মালহোত্রা-সহ একাধিক বিজেপি নেতা। এদিন তাঁরা পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতেও অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত বলেন, “আজ সেই মহান ব্যক্তিত্বকে স্মরণ করার দিন, যিনি বিজেপির বীজ রোপণ করেছিলেন, যা আজ এক বিশাল বটবৃক্ষে পরিণত হয়েছে। তিনি নিজেই ছিলেন এক যুগ। আমরা তাঁর ব্যক্তিত্বের সামান্য অংশমাত্র।”
তিনি আরও বলেন, “দেশের স্বার্থে তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রিত্ব ত্যাগ করেছিলেন এবং জাতীয় ঐক্য ও অখণ্ডতার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। তাঁর ১২৫তম জন্মবার্ষিকীর বছরেও আমরা তাঁর আদর্শ স্মরণ করছি। দেশের উন্নয়নের জন্য নিজেদের কর্তব্য পালনের অঙ্গীকার করা উচিত।”
দিল্লির মন্ত্রী পঙ্কজ কুমার সিং বলেন, “তিনি ছিলেন একজন দূরদর্শী নেতা, যিনি হিন্দু সমাজ ও দেশের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। দেশের স্বার্থে মন্ত্রিত্ব ত্যাগ করা তাঁর অসাধারণ আত্মত্যাগের পরিচয়।”
বিজেপি বিধায়ক সতীশ উপাধ্যায় বলেন, “দেশের ঐক্য ও অখণ্ডতার জন্য তিনি সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদের ভাবনা তাঁর আদর্শ থেকেই অনুপ্রাণিত।”
দিল্লি বিজেপি সভাপতি হর্ষ মালহোত্রা বলেন, “ড. মুখোপাধ্যায়ের আত্মত্যাগের লক্ষ্য পূরণ হয়েছে যখন প্রধানমন্ত্রী মোদি ৩৭০ ও ৩৫এ অনুচ্ছেদ বাতিল করেন। এর ফলে জম্মু ও কাশ্মীর সম্পূর্ণভাবে ভারতের সঙ্গে একীভূত হয়েছে এবং সেখানে সরাসরি ভারতীয় সংবিধান কার্যকর হয়েছে।”
বিজেপি সাংসদ বাঁশুরি স্বরাজ বলেন, “ভারতের ঐক্য, পরিচয় ও জাতীয়তাবাদের দৃঢ় প্রহরী ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়কে আমি শ্রদ্ধা জানাই। তাঁর জীবন দেখিয়েছে, ‘দেশ সবার আগে’ শুধু একটি স্লোগান নয়, বরং জীবনদর্শন।”
অন্যদিকে বিজেপি সাংসদ মনোজ তিওয়ারি বলেন, “আজ ড. মুখোপাধ্যায়ের শহিদ দিবস। কাশ্মীরে পারমিট ছাড়া প্রবেশের সময় তাঁকে আটক করা হয়েছিল এবং সেই ঘটনার পরিণতিতেই তাঁর মৃত্যু ঘটে। আমরা তাঁর আত্মত্যাগকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি।”



















