কলকাতা, ২১ জুন (আইএএনএস): উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত চার জনের মৃত্যু হয়েছে এবং গুরুতর আহত হয়েছেন ১০ জন। রবিবার জাতীয় সড়ক ২৭-এ ময়নাগুড়ি এলাকার উল্লাডাবাড়িতে উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণ সংস্থার (এনবিএসটিসি) একটি যাত্রীবোঝাই বাস রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রেলারের পিছনে সজোরে ধাক্কা মারে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দুর্ঘটনায় মোট ৫৭ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে চার জনের মৃত্যু হয়।
মৃতদের মধ্যে একজনের পরিচয় সজল সরকার হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। বাকি তিন জনের পরিচয় এখনও জানা যায়নি।
জলপাইগুড়ির পুলিশ সুপার সুজাতা কুমারী বীণাপাণি দুর্ঘটনায় চার জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে ৩৭ জন জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে এবং ২০ জন ময়নাগুড়ি গ্রামীণ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, শিলিগুড়ি থেকে কোচবিহারগামী এনবিএসটিসি বাসটি তিস্তা সেতু পার হয়ে উল্লাডাবাড়ি এলাকায় পৌঁছনোর পর অতিরিক্ত গতিতে এসে জাতীয় সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রেলারের পিছনে ধাক্কা মারে।
সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই ছিল যে বাসটির সামনের অংশ ট্রেলারের পিছনের অংশে ঢুকে যায়। বাসের সামনের সারিতে বসা বেশ কয়েকজন যাত্রী বিকৃত ধাতব কাঠামোর মধ্যে আটকে পড়েন।
দুর্ঘটনার শব্দ শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রথমে ঘটনাস্থলে ছুটে এসে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ, দমকল বাহিনী এবং একাধিক অ্যাম্বুল্যান্স ঘটনাস্থলে পৌঁছয়।
কয়েক ঘণ্টা ধরে উদ্ধার অভিযান চলে। উদ্ধারকারীরা বাসের দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া অংশ কেটে আটকে পড়া যাত্রীদের বের করে আনেন।
আহতদের দ্রুত নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বেশ কয়েকজনের মাথা, বুক এবং শরীরের অন্যান্য অংশে গুরুতর আঘাত লেগেছে।
ময়নাগুড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক সুবলচন্দ্র ঘোষ স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “উল্লাডাবাড়ি এলাকায় একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় বাসিন্দারাই প্রথম উদ্ধারকাজ শুরু করেন। খবর পাওয়ার পর পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন। আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, বাসটি পিছন দিক থেকে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেলারটিকে ধাক্কা মারে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।”
দুর্ঘটনার জেরে কিছু সময়ের জন্য জাতীয় সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে ক্রেনের সাহায্যে ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহন সরিয়ে স্বাভাবিক যান চলাচল পুনরুদ্ধার করা হয়।
পুলিশ দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখছে। চালকের গাফিলতি অথবা অন্য কোনও কারণ এই দুর্ঘটনার জন্য দায়ী কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।



















