বার্মিংহাম, ১৫ জুন (আইএএনএস): মহিলাদের টি-২০ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের দাপুটে জয়ের পর দলের ঐক্য, লড়াইয়ের মানসিকতা এবং পারস্পরিক সমর্থনের প্রশংসা করলেন ভারতীয় ব্যাটার জেমাইমা রডরিগেজ। ম্যাচের পর ড্রেসিংরুমে সতীর্থদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে তিনি শুধু তারকা পারফরমারদের নয়, গোটা দলের অবদানকে তুলে ধরেন।
ম্যাচ-পরবর্তী একটি ভিডিও ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) শেয়ার করেছে, যেখানে জেমাইমাকে দেখা যায় দলের সকল সদস্যকে অভিনন্দন জানাতে। তিনি বলেন, কঠিন পরিস্থিতিতেও দল যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং একে অপরকে সমর্থন করেছে, সেটাই এই জয়ের মূল চাবিকাঠি।
প্রথমেই তিনি ওপেনার শেফালি বর্মার আক্রমণাত্মক সূচনার প্রশংসা করেন। জেমাইমা বলেন, “প্রথম ম্যাচ সবসময়ই বিশেষ। শেফালি, বড় টুর্নামেন্টের প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকানো সহজ নয়।”
এরপর তিনি স্মৃতি মন্ধানা এবং অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌরের গুরুত্বপূর্ণ জুটির কথা উল্লেখ করেন, যা ভারতের ইনিংসকে স্থিতিশীলতা দেয়।
জেমাইমা বলেন, “আমাদের দুই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার স্মৃতি ও হরমনপ্রীত পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজেদের মানিয়ে নিয়ে অসাধারণ ব্যাটিং করেছে।”
ইনিংসের শেষদিকে রিচা ঘোষ এবং দীপ্তি শর্মার গুরুত্বপূর্ণ অবদানও বিশেষভাবে তুলে ধরেন তিনি।
“ম্যাচটা যেভাবে শেষ করেছি, তার সেরা উদাহরণ রিচা ও দীপ্তি,” মন্তব্য করেন জেমাইমা।
তবে তাঁর মতে, এই জয় শুধুমাত্র বড় শট বা বাউন্ডারির ফল নয়। দলের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই ছিল সবচেয়ে বড় শক্তি।
তিনি বলেন, “এটা ছক্কা বা বাউন্ডারির গল্প নয়। বোলিংয়ে আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে যে, কোনও দিন একজন ভালো বল করবে, অন্যজন হয়তো করবে না। কিন্তু আমরা সবসময় বলেছি, দল হিসেবে আমরা একে অপরের ঘাটতি পূরণ করব।”
পাকিস্তানের ইনিংসের সময় ভারতীয় বোলারদের ঘুরে দাঁড়ানোর প্রশংসাও করেন জেমাইমা। শুরুতে পাকিস্তান দ্রুত রান তুললেও পরে ভারত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয়।
তিনি বলেন, “আমরা যেভাবে বোলিং করেছি, সেটা অসাধারণ। শুরুটা আমাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী হয়নি, কিন্তু পরে যেভাবে ম্যাচে ফিরেছি, তা আমাদের অনেক আত্মবিশ্বাস দেবে।”
বিশেষভাবে দীপ্তি শর্মার প্রশংসা করে জেমাইমা বলেন, “চাপের মুহূর্তে তুমি সবসময় আলাদা করে নজর কাড়ো। আজও বল হাতে সেই দায়িত্ব নিয়েছ।”
তরুণ স্পিনার শ্রেয়াঙ্কা পাটিলের পরিণত বোলিংয়েও মুগ্ধ তিনি। “তুমি যে পরিপক্বতার পরিচয় দিয়েছ, তা সত্যিই প্রশংসনীয়,” বলেন জেমাইমা।
ফিল্ডিংয়েও ভারতের সাফল্যের কথা উল্লেখ করে তিনি শেফালি বর্মার ক্যাচ ধরার দক্ষতার প্রশংসা করেন।
“শেফালি, তোমার হাত যেন জাদুকরি। তুমি দেখিয়েছ, দলের জন্য সবসময় অবদান রাখা যায়,” বলেন তিনি।
কঠিন দিন কাটানো বোলার অরুন্ধতী রেড্ডি ও ক্রান্তি গৌড়কেও উৎসাহ দেন জেমাইমা। তিনি বলেন, “অরুন্ধতী, তুমি আমাদের অন্যতম সেরা ও অভিজ্ঞ বোলার। আমরা সবাই তোমার উপর ভরসা রাখি। ক্রান্তি, পাওয়ারপ্লেতে তোমার দক্ষতা দলের বড় সম্পদ।”
শ্রী চারণির বোলিংয়েরও প্রশংসা করেন তিনি।
জেমাইমা মনে করেন, ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় প্রথম ছয় ওভারের পর দলের বৈঠকের সময়।
তিনি বলেন, “প্রথম ছয় ওভারে সবকিছু একটু এদিক-ওদিক যাচ্ছিল। কিন্তু সবাই একসঙ্গে জড়ো হয়ে আলোচনা করার পর পরিস্থিতি বদলে যায়। এরপরই স্মৃতির সেই দুর্দান্ত মুহূর্ত আসে।”
শেষে ভারতের ফিল্ডিং পারফরম্যান্সের কথাও তুলে ধরেন জেমাইমা। দীপ্তি শর্মার রান-আউট, শ্রেয়াঙ্কা পাটিলের অসাধারণ ক্যাচ এবং নিজের দুটি ক্যাচের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “এই ছোট ছোট মুহূর্তগুলোই ম্যাচে বড় পার্থক্য গড়ে দিয়েছে।”
ভারতের এই জয় শুধু ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স নয়, বরং দলগত সংহতি, লড়াইয়ের মানসিকতা এবং পারস্পরিক বিশ্বাসের এক উজ্জ্বল উদাহরণ বলেই মনে করছেন জেমাইমা রডরিগেজ।
























