নয়াদিল্লি, ১৫ জুন (আইএএনএস): নয়ডা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (এনআইএ) নির্মাণের জন্য জমি প্রদানকারী কৃষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। সোমবার তিনি বলেন, দেশের সমৃদ্ধির মূল ভিত্তি হলেন কৃষকরা এবং উন্নয়নের যাত্রায় তাঁদের অবদানকে সম্মান জানানো সকলের কর্তব্য।
সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ একটি পোস্টে মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, “আমাদের কৃষকরাই দেশের সমৃদ্ধির ভিত্তি। রাজ্যের উন্নয়নের যাত্রায় কৃষকদের অংশগ্রহণ ও অবদানকে সম্মান জানানো আমাদের সকলের দায়িত্ব।”
এদিন গৌতম বুদ্ধ নগর জেলার জেওয়ারে নির্মিত নতুন নয়ডা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উদ্বোধনী উড়ানে লখনউ পৌঁছনো কৃষকদেরও স্বাগত জানান তিনি।
কৃষকদের কল্যাণে তাঁর সরকারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে যোগী আদিত্যনাথ বলেন, “‘কৃষকের সম্মান, সমৃদ্ধ ভারতের অভিমান’ এই আদর্শকে সামনে রেখে আমরা প্রতিটি কৃষকের উন্নয়নের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
উল্লেখ্য, সোমবারই স্বল্পমূল্যের বিমান সংস্থা ইন্ডিগো নয়ডা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড়ান পরিষেবা শুরু করে। এর ফলে ইন্ডিগোই এই নতুন বিমানবন্দর থেকে পরিষেবা চালু করা প্রথম বিমান সংস্থা হয়ে উঠেছে।
সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রথম বিমানটি লখনউ থেকে নয়ডা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে এবং কিছুক্ষণ পর সেখান থেকে বেঙ্গালুরুর উদ্দেশে প্রথম উড়ান ছেড়ে যায়।
ইন্ডিগো সরাসরি দেশের ১৬টিরও বেশি গন্তব্যের সঙ্গে এই বিমানবন্দরকে যুক্ত করবে। পাশাপাশি অমৃতসর-জোধপুর, বেরেলি-ভোপাল, বেরেলি-জয়পুর, ধরমশালা-জোধপুর, চণ্ডীগড়-কিশনগড়, জম্মু-জোধপুর, জয়পুর-পন্তনগর এবং কিশনগড়-ভোপালসহ ১৪টি শহর জোড়ার মধ্যে এক-স্টপ সংযোগও চালু হবে।
ইন্ডিগোর চিফ স্ট্র্যাটেজি অফিসার অলোক সিং বলেন, “নয়ডা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্বোধন ভারতের বিমান চলাচলের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। দিল্লি-এনসিআর এখন বিশ্বের সেই নির্বাচিত বৃহৎ মহানগরগুলির তালিকায় স্থান পেল, যেখানে একাধিক বিমানবন্দর পরিষেবা দিচ্ছে।”
যমুনা এক্সপ্রেসওয়ের ধারে অবস্থিত এই বিমানবন্দর ভবিষ্যতে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিমান ও লজিস্টিক্স হাব হিসেবে গড়ে উঠবে বলেও মনে করা হচ্ছে।
নয়ডা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভাইস চেয়ারম্যান ক্রিস্টফ শ্নেলমান বলেন, “ইন্ডিগোর প্রথম উড়ানকে স্বাগত জানানো আমাদের জন্য এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা। উদ্বোধনী বিমান সংস্থা হিসেবে ইন্ডিগো দেশের গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যগুলির সঙ্গে এই বিমানবন্দরকে যুক্ত করবে, যা যাত্রীদের আরও বেশি সুবিধা ও বিকল্প দেবে।”
তিনি আরও জানান, যাত্রীদের নির্বিঘ্ন ভ্রমণ অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করতে এবং বিমান চলাচল, বাণিজ্য ও পর্যটনের প্রসারে ইন্ডিগোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।



















