ম্যানিলা, ১৪ জুন (আইএএনএস): ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিন্ডানাও দ্বীপের উপকূলে ৮ জুন আঘাত হানা ৭.৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬১-এ পৌঁছেছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ৪০ জন। আহত হয়েছেন অন্তত ১,৪০৩ জন বলে রবিবার জানিয়েছে দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কাউন্সিল (এনডিআরআরএমসি)।
এনডিআরআরএমসি-র তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পে ৭৫,৩০০-রও বেশি পরিবার, অর্থাৎ ৩ লক্ষ ৪৬ হাজারের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ৪৫ হাজারেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যেতে হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১২,৬০০-রও বেশি বাড়ি।
সংস্থাটি জানিয়েছে, ভূমিকম্পের জেরে অন্তত ৪৫টি আনুষঙ্গিক ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে অধিকাংশই ভূমিধস। এছাড়া ৪৫টি সড়ক, আটটি সেতু, একটি বিমানবন্দর এবং দুটি সমুদ্রবন্দরের পরিষেবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষি, পশুপালন এবং মৎস্য শিল্পেও ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। ৪৮টি শহর ও পৌর এলাকায় বিদ্যুৎ পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে।
ফিলিপাইন ইনস্টিটিউট অব ভলকানোলজি অ্যান্ড সিসমোলজি জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৩৭ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল মিন্ডানাও দ্বীপের সারাঙ্গানি প্রদেশের মাসিম শহরের উপকূল থেকে প্রায় ৩২ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে। ভূমিকম্পের উৎসস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের ৩৩ কিলোমিটার গভীরে।
এর আগে ফিলিপাইনের সিভিল ডিফেন্স অফিসের মুখপাত্র জুনি কাস্তিয়ো জানিয়েছিলেন, দক্ষিণ কোটাবাটোর জেনারেল সান্তোস শহরে অন্তত ১০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। সেখানে এখনও অন্তত ১২ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
কর্তৃপক্ষের মতে, ধ্বংসাবশেষ ভেঙে পড়া, ভবন ধস এবং ভূমিধসের কারণে অধিকাংশ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ফিলিপাইন ন্যাশনাল পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে অন্তত ১৩৪ জন আহত হয়েছিলেন।
জেনারেল সান্তোস শহরে একটি দোতলা স্কুল ভবন ধসে পড়ে। সেই সময় ভবনের ভিতরে কয়েকজন পড়ুয়া আটকে পড়েছিলেন বলে জানা গেছে। প্রশাসন এখনও ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তথ্য যাচাই করছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় এবং রেস্তোরাঁর ভবন ধসে পড়ার দৃশ্য দেখা গিয়েছে।
বহু বাণিজ্যিক ভবনেও কাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে। বিভিন্ন দোকান ও প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড ভেঙে পড়েছে এবং জানালার কাচ চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেছে। আতঙ্কিত বাসিন্দারা দ্রুত ঘরবাড়ি ছেড়ে খোলা জায়গায় আশ্রয় নেন।
গ্রীষ্মকালীন ছুটির পর ফিলিপাইনের স্কুলগুলি পুনরায় খোলার অল্প সময়ের মধ্যেই এই শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। বিভিন্ন স্কুলের সিসিটিভি ফুটেজে প্রবল কম্পনের দৃশ্য ধরা পড়েছে। শিক্ষক ও পড়ুয়ারা তড়িঘড়ি ভবন থেকে বেরিয়ে যান অথবা বেঞ্চের নিচে আশ্রয় নেন।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে শিক্ষা দফতরের তথ্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত স্কুলের সংখ্যা বেড়ে ৮,৬৪২-এ পৌঁছেছে। ছয়টি অঞ্চলের ৪৩টি শিক্ষা বিভাগের অধীনে থাকা স্কুলগুলি এর আওতায় রয়েছে।
























