কলকাতা, ৮ জুন (আইএএনএস): পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে সোমবার জোর জল্পনার সৃষ্টি হয়েছে, যখন প্রাক্তন রাজ্য মন্ত্রী ও কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা তথা তৃণমূল কংগ্রেসের ভাঙন-শিবিরের নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের কক্ষে গিয়ে তাঁর সঙ্গে বৈঠক করেন।
২০১১ সাল থেকে টানা চারবারের তৃণমূল বিধায়ক ফিরহাদ হাকিমকে এদিন বিধানসভা চত্বরে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য বরাদ্দ কক্ষে প্রবেশ করতে দেখা যায়। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ভাঙন-শিবিরের আর এক বিধায়ক সন্দীপন সাহাও। সেখানে তিন নেতার মধ্যে কিছুক্ষণ বৈঠক হয়।
তবে বৈঠকের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ফিরহাদ হাকিম বৈঠকের উদ্দেশ্য বা আলোচ্য বিষয় সম্পর্কে কোনও মন্তব্য করতে অস্বীকার করেন।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এই ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল যখন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জী নয়াদিল্লিতে বিরোধী জোট ভারত-র বৈঠকে যোগ দিতে গিয়েছেন। বৈঠকটি ডেকেছেন মল্লিকার্জুন খাড়গে।
এদিকে দিল্লি থেকেও তৃণমূলের অন্দরে অস্বস্তির খবর সামনে এসেছে। সূত্রের খবর, তৃণমূলের একদল বিদ্রোহী সাংসদ, যাঁদের নেতৃত্বে ছিলেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার এবং শতাব্দী রায়, কেন্দ্রীয় পরিবেশমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব-এর সরকারি বাসভবনে পৌঁছন।
সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী-ও। আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প বাস্তবায়ন সংক্রান্ত কেন্দ্র-রাজ্য সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের জন্য তিনি বর্তমানে দিল্লিতে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
সূত্রের দাবি, লোকসভা ও রাজ্যসভার মিলিয়ে প্রায় ২০ জন তৃণমূল সাংসদ ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন সুখেন্দু শেখর রায়, যিনি সোমবারই রাজ্যসভার সদস্যপদ এবং তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন।
বিদ্রোহী সাংসদদের মূল আপত্তি, তাঁরা দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে মেনে নিতে রাজি নন বলে সূত্রের দাবি।
ফিরহাদ হাকিমের ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠক এবং দিল্লিতে বিদ্রোহী সাংসদদের তৎপরতা ঘিরে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে।
_______
























