নয়াদিল্লি, ৮ জুন (আইএএনএস): দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (আইজিআই)-এ বড় মাদক পাচারচক্রের চেষ্টা ভেস্তে দিল শুল্ক দফতর। দুইটি গিজারের ভিতরে লুকিয়ে রাখা ১৫.৩৮ কিলোগ্রাম সন্দেহভাজন হাইড্রোপনিক গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় দুই যাত্রীকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে সোমবার জানিয়েছেন আধিকারিকরা।
শুল্ক দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য এবং যাত্রীদের প্রোফাইল বিশ্লেষণের ভিত্তিতে রবিবার কুয়ালালামপুর থেকে আসা ডি৭-১৮২ বিমানের দুই যাত্রীকে নজরে রাখা হয়। গ্রিন চ্যানেল পার হওয়ার পর তাঁদের আটক করা হয়।
তল্লাশির সময় দেখা যায়, যাত্রীরা তাঁদের চেক-ইন লাগেজের পাশাপাশি দুটি একেবারে নতুন গিজার বহন করছিলেন। জিজ্ঞাসাবাদ এবং তাঁদের মোবাইল ফোনে পাওয়া কিছু তথ্য বিশ্লেষণের পর ওই গিজারগুলিকে ঘিরে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়।
এরপর গিজার দুটির এক্স-রে পরীক্ষা করা হলে ভিতরে লুকিয়ে রাখা বস্তু থাকার ইঙ্গিত মেলে। পরে গিজার খুলে দেখা যায়, অত্যন্ত কৌশলে বিশেষ গোপন কুঠুরি তৈরি করে মাদক লুকিয়ে রাখা হয়েছিল।
তল্লাশিতে মোট ১৪৫টি ভ্যাকুয়াম-সিল করা প্যাকেট উদ্ধার হয়। প্রাথমিক পরীক্ষায় সেগুলিতে সবুজ রঙের পাতাজাতীয় পদার্থ পাওয়া যায়, যা হাইড্রোপনিক গাঁজা বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
উদ্ধার হওয়া মাদকের মোট ওজন ১৫.৩৮ কিলোগ্রাম। শুল্ক দফতরের হিসাব অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক অবৈধ বাজারে এর আনুমানিক মূল্য প্রায় ৫ কোটি ৩৮ লক্ষ টাকা।
মাদকদ্রব্যটি নারকোটিক ড্রাগস অ্যান্ড সাইকোট্রপিক সাবস্ট্যান্সেস (এনডিপিএস) আইন, ১৯৮৫-এর আওতায় বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। গ্রেফতার হওয়া দুই যাত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এই চালানের উৎস এবং এর সম্ভাব্য প্রাপকদের খুঁজে বের করতে তদন্ত চালাচ্ছেন আধিকারিকরা।
উল্লেখ্য, এর কয়েকদিন আগেই একই বিমানবন্দরে আরেকটি মাদক পাচারের চেষ্টা ব্যর্থ করে শুল্ক দফতর। গত ৪ জুন ব্যাংকক থেকে আসা এক যাত্রীর কাছ থেকে ১.৫৭ কিলোগ্রাম সন্দেহভাজন হাইড্রোপনিক গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছিল, যার আনুমানিক মূল্য ছিল প্রায় ৫৫ লক্ষ টাকা।
সেই ঘটনায়ও গ্রিন চ্যানেল পার হওয়ার পর যাত্রীর লাগেজ স্ক্যান করে সন্দেহজনক ছবি পাওয়া যায়। পরে তল্লাশি চালিয়ে তিনটি ভ্যাকুয়াম-সিল করা প্যাকেটে লুকিয়ে রাখা মাদক উদ্ধার করা হয়।



















