তেহরান, ৮ জুন (আইএএনএস): দক্ষিণ লেবানন এবং বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় দাহিয়েহ এলাকায় ইজরায়েল যদি হামলা আরও বাড়ায় বা ইরানের সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপের জবাব দেয়, তবে আরও “বিধ্বংসী ও অনুতাপজনক আঘাত” হানার হুঁশিয়ারি দিল ইরান।
রবিবার ইরানের আধা-সরকারি সংবাদসংস্থা ফার্স নিউজে প্রচারিত এক বিবৃতিতে খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের প্রধান কমান্ডার আলি আবদোল্লাহি বলেন, ইজরায়েলকে অবিলম্বে দক্ষিণ লেবানন ও দাহিয়েহ এলাকায় হামলা বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় ইজরায়েল এবং তার সমর্থকদের বিরুদ্ধে ব্যাপক আকারে বিধ্বংসী হামলা শুরু হবে।
আবদোল্লাহির অভিযোগ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের “নীরব সমর্থন” এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলির নিষ্ক্রিয়তার সুযোগ নিয়ে ইজরায়েল প্রতিদিন লেবাননের মানুষের বিরুদ্ধে আক্রমণ বাড়িয়ে চলেছে। তাঁর দাবি, ফসফরাস বোমার মতো নিষিদ্ধ অস্ত্র ব্যবহার করে ইজরায়েল যুদ্ধাপরাধ করছে।
তিনি আরও বলেন, ইরানের একাধিক সতর্কবার্তা সত্ত্বেও ইজরায়েল দক্ষিণ লেবাননে হামলা বৃদ্ধি করেছে এবং দাহিয়েহ এলাকায় আঘাত হেনে সব সীমারেখা অতিক্রম করেছে।
এদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে ইজরায়েলের সামরিক অভিযানের প্রতিক্রিয়ায় রবিবার উত্তর ইজরায়েলের রামাত ডেভিড বিমানঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে।
আইআরজিসি-র বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, ওই বিমানঘাঁটি থেকেই লেবাননের বিরুদ্ধে একাধিক সামরিক অভিযান পরিচালিত হয়েছে। একইসঙ্গে তারা অভিযোগ করেছে, ৮ এপ্রিল ইরান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইজরায়েলের মধ্যে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির শর্ত ছিল সব ফ্রন্টে সংঘর্ষ বন্ধ রাখা। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েল সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি এবং লেবাননে হামলা অব্যাহত রেখেছে।
আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালী, ওমান সাগর এবং ভারত মহাসাগরে ইরানের উপকূল ও জাহাজগুলিকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। রবিবারের সামরিক অভিযানকে তারা একটি সতর্কবার্তা বলে উল্লেখ করে জানিয়েছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলা পুনরাবৃত্তি হলে পশ্চিম এশিয়াজুড়ে মার্কিন ও ইজরায়েলি স্বার্থকেও লক্ষ্য করা হবে।
অন্যদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সামরিক উপদেষ্টা মোহসেন রেজাই সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, “ইরান বহুবার স্পষ্ট করেছে যে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন বা লেবাননের বিরুদ্ধে আগ্রাসন মেনে নেওয়া হবে না।”
তিনি আরও বলেন, “এটি একটি সতর্কবার্তা। আগ্রাসন বন্ধ না হলে প্রতিটি নতুন পদক্ষেপের আরও কঠোর জবাব দেওয়া হবে এবং তার মূল্যও অনেক বেশি হবে।”
সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর নিরাপত্তাজনিত কারণে দেশের পশ্চিমাঞ্চলের আকাশসীমা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে ইরানের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।
উল্লেখ্য, গত ৮ এপ্রিল ইরান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইজরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। তার আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানের বিরুদ্ধে ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর শুরু হওয়া ৪০ দিনের সংঘর্ষের অবসান ঘটে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একাধিক প্রস্তাব বিনিময় হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। উভয় পক্ষই সংঘাতের আনুষ্ঠানিক অবসানের জন্য একটি সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
























