চেন্নাই, ৮ জুন (আইএএনএস): কিংবদন্তি পরিচালক সিঙ্গীতম শ্রীনিবাস রাও পরিচালিত সমালোচকদের প্রশংসিত সুপারহিট ছবি পুষ্পক মাত্র ১৫ লক্ষ টাকা বাজেটে তৈরি হয়েছিল বলে জানিয়েছেন অভিনেতা ও সাংসদ কমল হাসান। তাঁর দাবি, ছবিটি যদি আজকের দিনে মুক্তি পেত, তাহলে ২০০ কোটিরও বেশি আয় করতে পারত।
চেন্নাইয়ে সিঙ্গীতম শ্রীনিবাস রাওয়ের আসন্ন ছবি ‘সিং গীতম’-এর প্রি-রিলিজ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে কমল হাসান তাঁর দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও প্রখ্যাত পরিচালকের সঙ্গে কাজের নানা স্মৃতি তুলে ধরেন। বিশেষ করে সংলাপবিহীন চলচ্চিত্র ‘পুষ্পক’-এর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সিনেমাটি নির্মাণের মূল চালিকাশক্তি ছিল আবেগ ও সৃজনশীলতা।
কমল হাসান বলেন, “সিনেমা মূলত আবেগের বিষয়। তারপর সেটি ব্যবসায় পরিণত হয়। কিন্তু এখন আমরা উল্টো পথে হাঁটছি। প্রথমেই ভাবছি ছবি ১০০ কোটি, ২০০ কোটি না ৩০০ কোটি আয় করবে কি না। কিন্তু যেদিন আমরা ১৫ লক্ষ টাকায় ‘পুষ্পক’ বানিয়েছিলাম, সেদিন আমাদের মনে হয়েছিল যেন ১৫০ কোটির ছবি তৈরি করেছি। আসলে এটা কোনও অতিরঞ্জন নয়। আমার বিশ্বাস, ছবিটি ইতিমধ্যেই ২০০ কোটিরও বেশি আয় করার ক্ষমতা রাখত। এটাই চলচ্চিত্র শিল্পের বাস্তবতা।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা এখনও আমাদের ছবিগুলির পূর্ণ বাণিজ্যিক সম্ভাবনা কাজে লাগাতে শিখছি। কিন্তু সিঙ্গীতম স্যার সেই আবেগের যুগ থেকে এসেছেন এবং আজও তাঁর সেই আবেগ একটুও কমেনি। শিল্পেরও সেই আবেগ হারানো উচিত নয়।”
পরিচালকের প্রশংসায় কমল হাসান বলেন, “তিনি সবসময়ই জেন-জেড প্রজন্মের থেকেও এগিয়ে। বয়স অনেক সময় বিরক্তিকর হয়ে ওঠে, কিন্তু মন তার সীমা ছাড়িয়ে যেতে পারে। সিঙ্গীতম শ্রীনিবাস রাও তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ। আমি এখনও তাঁর কাছ থেকে শিখছি। সুযোগ পেলে তাঁর সহকারী পরিচালক হিসেবেও কাজ করতে চাই।”
উল্লেখ্য, ৯৪ বছর বয়সে আবারও পরিচালকের আসনে ফিরেছেন সিঙ্গীতম শ্রীনিবাস রাও। তাঁর নতুন ছবি ‘সিং গীতম’ আগামী ১১ জুন মুক্তি পাওয়ার কথা।
দীর্ঘ কয়েক দশকের কর্মজীবনে একাধিক ভাষায় প্রায় ৬০টি ছবি পরিচালনা করেছেন তিনি। ভারতীয় চলচ্চিত্রে অভিনব গল্প বলার ধারা প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদান বিশেষভাবে স্বীকৃত। ‘পুষ্পক’-সহ তাঁর বহু ছবি আজও ক্লাসিক হিসেবে বিবেচিত হয়।
‘সিং গীতম’-কে ভারতের প্রথম মিউজিক্যাল ফ্যান্টাসি চলচ্চিত্র বলে দাবি করা হচ্ছে। ছবিটি প্রযোজনা করেছেন নাগ অশ্বিন। ভিজয়ন্তী মুভিজ এবং স্বপ্না সিনেমার ব্যানারে নির্মিত এই ছবিতে অভিনয় করেছেন আয়ান, অহিল্যা বামরু এবং শালিনী কন্দেপুড়ি।



















