নয়াদিল্লি, ৭ জুন (আইএএনএস বাংলা): ৮ জুন রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হতে চলা ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক শুরু হওয়ার আগেই জোটের অভ্যন্তরে মতভেদ ও অসন্তোষ প্রকাশ্যে চলে এসেছে। কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেস বিজেপির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার চেষ্টা চালালেও জোটের গুরুত্বপূর্ণ শরিক দলগুলির মধ্যে ডিএমকে, ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা (জেএমএম) এবং সিপিআই(এম)-এর একাংশ কংগ্রেসের ভূমিকা নিয়ে তীব্র আপত্তি তুলেছে।
তামিলনাড়ুর প্রধান আঞ্চলিক দল ডিএমকে ইতিমধ্যেই বৈঠক বয়কটের ঘোষণা করেছে। দলের মুখপাত্র সরবণন অন্নাদুরাই আইএএনএস-কে বলেন, “কংগ্রেস যেখানে উপস্থিত থাকবে, সেখানে আমরা থাকতে চাই না। তারা আমাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। ডিএমকের কর্মীদের পরিশ্রম ও ত্যাগকে ব্যবহার করে পরে নিজেদের স্বার্থে শিবির বদল করেছে।”
তবে তিনি জানান, ডিএমকে অন্য বিরোধী দলগুলির মতামত শুনতে আগ্রহী এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থে বিরোধী শক্তিগুলির মধ্যে আলোচনার পক্ষে।
এদিকে, ঝাড়খণ্ডে রাজ্যসভার দুটি আসনকে কেন্দ্র করে জেএমএম-কংগ্রেস সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। জেএমএম উভয় আসনেই নিজেদের প্রার্থী দিতে চাইলেও কংগ্রেস একতরফাভাবে একটি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করায় তারা ক্ষুব্ধ। যদিও জোটের সংখ্যা দুই আসন জেতার জন্য যথেষ্ট।
অন্যদিকে, কেরল নির্বাচনে কংগ্রেসের আচরণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সিপিআই(এম)। দলের সাধারণ সম্পাদক এম. এ. বেবি কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খার্গে-কে চিঠি লিখে অভিযোগ করেছেন যে কংগ্রেসের কয়েকজন নেতা সিপিআই(এম)-এর বিরুদ্ধে বিজেপির সঙ্গে গোপন সমঝোতার অভিযোগ তুলেছেন।
সিপিআই(এম) নেতা হান্নান মোল্লা বলেন, “জোটের সবচেয়ে বড় দল হিসেবে কংগ্রেসের দায়িত্ব বেশি। কিন্তু তারা সেই পরিপক্বতা দেখাতে পারছে না। নেতৃত্ব দিতে গেলে সব শরিককে সঙ্গে নিয়ে চলতে হয়।”
তিনি বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী-র সমালোচনা করে বলেন, “এক জায়গায় সিপিআই(এম)-কে, অন্য জায়গায় ডিএমকে-কে আক্রমণ করলে জোটকে একসঙ্গে রাখা সম্ভব নয়। এভাবে চললে জোটের ঐক্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”
আগামীকালের বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক ব্যানার্জি, ওমর আবদুল্লাহ-সহ প্রায় ১৫টি বিরোধী দলের প্রতিনিধিদের উপস্থিত থাকার কথা। তবে জাতীয়তাবাদী কংগ্রেস পার্টি (শারদ পাওয়ার গোষ্ঠী) এবং শিবসেনা (উদ্ধব বালাসাহেব ঠাকরে)-এর প্রতিনিধিরা ভার্চুয়ালি যোগ দিতে পারেন বলে জানা গেছে।
রাজ্যসভা নির্বাচন ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণের উদ্দেশ্যে এই বৈঠক ডাকা হলেও, বৈঠক শুরুর আগেই শরিকদের অসন্তোষ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে বিরোধী জোটের সামনে ঐক্য বজায় রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
























