কলকাতা, ৭ জুন (আইএএনএস): তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জী রবিবার কলকাতা পুরনিগমের (কেএমসি) তৃণমূল কাউন্সিলরদের সঙ্গে নির্ধারিত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক বাতিল করেছেন।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পূর্ব কলকাতার তৃণমূল ভবনে রবিবার এই বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। বৈঠকে উপস্থিত থাকার জন্য আগেই কেএমসি-র তৃণমূল কাউন্সিলরদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে পরে তাঁদের কাছে বৈঠক বাতিলের বার্তা পাঠানো হয়।
যদিও বৈঠক বাতিলের কারণ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
এদিকে জানা গেছে, সোমবার বিরোধী জোট ভারত ব্লক-এর বৈঠকে যোগ দিতে রবিবারই নয়াদিল্লির উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর ভাইপো এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জী ইতিমধ্যেই শনিবার দিল্লির উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন।
কেএমসি-র তৃণমূল কাউন্সিলরদের সঙ্গে রবিবারের বৈঠকটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছিল, কারণ সম্প্রতি কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ও রাজ্যের প্রাক্তন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম পদত্যাগ করেছেন।
হাকিমের পদত্যাগের পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী-র নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার শনিবার সন্ধ্যায় কেএমসি কর্তৃপক্ষকে নোটিস পাঠিয়ে জানতে চেয়েছে, মেয়রের পদত্যাগের পর কেন বর্তমান তৃণমূল-নিয়ন্ত্রিত পুরবোর্ড ভেঙে দেওয়া হবে না।
বর্তমান কেএমসি বোর্ড শুধু মেয়রের পদত্যাগের কারণেই নয়, আরও কয়েকজন নির্বাচিত প্রতিনিধির ইস্তফার জেরেও সংকটের মুখে পড়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মেয়র-ইন-কাউন্সিলের এক সদস্য এবং কয়েকজন বরো চেয়ারম্যান।
এই পরিস্থিতিতে কেএমসি চেয়ারপার্সন মালা রায় এবং রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের মধ্যে আইনি ব্যাখ্যা নিয়ে মতবিরোধও তৈরি হয়েছে।
রাজ্য সরকারের দাবি, কেএমসি আইন, ১৯৮০-এর ১১৭(১) ধারার অধীনে মেয়রের পদত্যাগের পর বর্তমান পুরবোর্ডের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং প্রয়োজনে সরকার কর্পোরেশন ভেঙে দিতে পারে।
এর পাশাপাশি, গত ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকে রবিবার সকাল পর্যন্ত দুর্নীতি, তোলাবাজি এবং নারী সংক্রান্ত অসদাচরণের অভিযোগে কেএমসি-র মোট আটজন তৃণমূল কাউন্সিলরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
ফলে কলকাতা পুরনিগমের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে জল্পনা ও অনিশ্চয়তা ক্রমশ বাড়ছে।



















