নয়াদিল্লি, ৭ জুন (আইএএনএস): জনপ্রিয় শিক্ষক ফয়সাল খান ওরফে ‘খান স্যার’-কে ঘিরে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। পাটনার কদমকুয়ান এলাকার একটি কোচিং প্রতিষ্ঠানে গুলি চালানোর ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হওয়ার পর আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের একাংশ তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন।
তদন্ত চলাকালীন উত্তরপ্রদেশের দেওরিয়ায় তাঁর আত্মীয় ও প্রতিবেশীদের প্রতিক্রিয়া সামনে এসেছে।
খান স্যারের কাকা নিসার আহমেদ খান দাবি করেন, “তাঁর বিশেষ কোনও উচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা নেই। তাঁর সঙ্গে যে ডিগ্রিগুলির কথা বলা হয়, সেগুলিও প্রকৃত নয়। তবে তিনি অত্যন্ত ভালো বক্তা এবং বক্তৃতার মাধ্যমেই জীবিকা নির্বাহ করেন। প্রথম দিকে তাঁর স্বভাব ভালো ছিল, কিন্তু পরে আরও বেশি অর্থ উপার্জনের মানসিকতা থেকে তাঁর আচরণ বদলে যায়।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “শোনা যাচ্ছে, পরীক্ষায় ভালো ফল করা ছাত্রছাত্রীদের পোস্টারে নিজের ছবি ব্যবহার করাকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। তাঁর স্বভাব অত্যন্ত কঠোর ও নির্মম।”
অন্যদিকে, এক প্রতিবেশী অভিযোগ করে বলেন, “সম্প্রতি আমাদের এলাকায় একটি বিরোধের কথা জানতে পেরেছি। অভিযোগ, নিজের প্রভাব ও অর্থবল ব্যবহার করে তিনি আশপাশের বাসিন্দাদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করেছিলেন। আমাদের সীমানা প্রাচীর জোর করে ভেঙে ফেলা হয়েছিল এবং আমরা মনে করি, এর পিছনে তাঁর ভূমিকা ছিল।”
তবে এই অভিযোগগুলির বিষয়ে খান স্যারের পক্ষ থেকে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এদিকে, ২ জুন পাটনার কদমকুয়ান এলাকার একটি কোচিং সেন্টারে ঘটে যাওয়া গুলি চালানোর ঘটনায় খান স্যার, তাঁর দুই নিরাপত্তারক্ষী এবং আরও কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অনিল কুমার-এর দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ১০৯ ধারায় (খুনের চেষ্টা) এবং অস্ত্র আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু হয়েছে।
তদন্তকারীদের দাবি, ২ জুন রাত প্রায় ১০টা ১০ মিনিট নাগাদ ঘটে যাওয়া ঘটনার একটি ভিডিও সামনে আসার পর তদন্তে গতি আসে। ওই ভিডিওতে দুই নিরাপত্তারক্ষীকে আকাশে গুলি ছুড়তে দেখা গিয়েছে বলে অভিযোগ।
ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া দুই নিরাপত্তারক্ষীর নাম তালেবর সিং এবং প্রদীপ কুমার। দু’জনেই উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা।
পুলিশ জানিয়েছে, তাঁদের অস্ত্রের লাইসেন্স বিহারের বাইরে থেকে ইস্যু করা হয়েছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এফআইআরে উল্লিখিত অন্যান্য অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের ভূমিকাও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
পুলিশের বক্তব্য, ঘটনার সবদিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত এখনও চলছে।
________
























