নয়াদিল্লি, ৭ জুন (আইএএনএস): এলপিজি সিলিন্ডারের দামে সাম্প্রতিক বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে বিরোধীদের তীব্র সমালোচনার জবাব দিল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। দলের দাবি, মূল্য সংশোধন নিয়ে বিরোধীরা অযথা সরব হলেও ভারতে এখনও বিশ্বের অন্যতম কম দামে রান্নার গ্যাস পাওয়া যায়।
সম্প্রতি গৃহস্থালি ব্যবহারের ১৪.২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৯ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। গত তিন মাসে এটি দ্বিতীয় মূল্যবৃদ্ধি। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির চাপের মুখে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থাগুলি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য রবিবার এক্স (সাবেক টুইটার)-এ এক পোস্টে বলেন, “প্রতিবার এলপিজির দামে সামান্য সংশোধন হলেই বিরোধীরা হইচই শুরু করে। কিন্তু তারা ইচ্ছাকৃতভাবে এড়িয়ে যায় যে ভারতীয় পরিবারগুলি এখনও বিশ্বের অন্যতম কম দামে রান্নার গ্যাস পাচ্ছে।”
তিনি জানান, বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনা (পিএমইউওয়াই)-র সুবিধাভোগীরা কার্যত ১৪.২ কেজির একটি সিলিন্ডারের জন্য ৬৪২ টাকা দেন। সাধারণ গ্রাহকদের ক্ষেত্রে দাম ৯৪২ টাকা, যা আন্তর্জাতিক বাজারভিত্তিক সরবরাহ খরচের তুলনায় প্রায় ৭০০ টাকা কম। তাঁর দাবি, বর্তমানে একটি সিলিন্ডার সরবরাহের আন্তর্জাতিক খরচ ১,৬০০ টাকারও বেশি।
পড়শি দেশগুলির সঙ্গে তুলনা টেনে মালব্য বলেন, পাকিস্তানে এলপিজির দাম ১,০৪৬ টাকা, নেপালে ১,২০৭ টাকা, বাংলাদেশে ১,২২৫ টাকা এবং শ্রীলঙ্কায় ১,২৪১ টাকা। অন্যদিকে উন্নত দেশগুলির মধ্যে আমেরিকায় ১,৭৫৫ টাকা, অস্ট্রেলিয়ায় ১,৭৬৫ টাকা এবং কানাডায় ২,৪১১ টাকা পর্যন্ত দাম রয়েছে।
বিজেপি নেতার দাবি, ফেব্রুয়ারি মাসের পর থেকে পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা এবং হরমুজ প্রণালী ঘিরে অনিশ্চয়তার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম প্রায় ৪৬ শতাংশ বেড়েছে। ভারত তার প্রয়োজনের একটি বড় অংশ আমদানির মাধ্যমে মেটালেও সরকার সাধারণ মানুষের উপর পুরো চাপ পড়তে দেয়নি।
তিনি আরও বলেন, গৃহস্থালি এলপিজিতে ‘আন্ডার-রিকভারি’ বা ভর্তুকিজনিত ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৬০,০০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। কেন্দ্র সরকার এবং রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি এই বোঝার বড় অংশ বহন করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
মালব্য জানান, উজ্জ্বলা যোজনার ১০.৫৮ কোটিরও বেশি পরিবার এখনও প্রতি সিলিন্ডারে ৩০০ টাকা করে সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ভর্তুকি পাচ্ছেন।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে নজিরবিহীন অস্থিরতার মধ্যেও ভারত নিরবচ্ছিন্ন এলপিজি সরবরাহ নিশ্চিত করেছে, ঘাটতি রোধ করেছে, দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি করেছে এবং আমদানির উৎস বৈচিত্র্যময় করেছে।
অমিত মালব্যর বক্তব্য, উজ্জ্বলা যোজনার গ্রাহকরা আন্তর্জাতিক মূল্যের তুলনায় প্রায় ৬০ শতাংশ কম দামে এলপিজি পাচ্ছেন এবং সাধারণ গ্রাহকরা প্রায় ৪৫ শতাংশ কম দামে গ্যাস কিনছেন। পাশাপাশি, ভারতীয় পরিবারগুলিকে প্রতিবেশী দেশগুলির তুলনায়ও কম দাম দিতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, “আসল প্রশ্ন মূল্যবৃদ্ধি কেন হল, তা নয়। বরং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংকটের মধ্যেও সরকার কীভাবে রান্নার গ্যাসের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখতে পেরেছে, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। বিরোধীরা সেই বাস্তবতা তুলে ধরতে চায় না।
























