মুম্বই, ৬ জুন (আইএএনএস): অবৈধ অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে বড়সড় অভিযানে মুম্বই পুলিশ সাতজন বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করেছে। অভিযোগ, বৈধ নথিপত্র ছাড়াই তারা প্রায় ১৫ বছর ধরে ভারতে বসবাস করছিলেন। শনিবার পুলিশ সূত্রে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
মহারাষ্ট্র ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন থানার পুলিশ অন্ধেরি এলাকায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ওই সাতজনকে আটক করে। তদন্তকারীদের দাবি, অভিযুক্তরা অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে দীর্ঘদিন ধরে মুম্বইয়ে বসবাস করছিলেন এবং প্রশাসনের নজর এড়িয়ে গিয়েছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এমআইডিসি পুলিশের অ্যান্টি-টেররিজম সেল (এটিসি) খবর পায় যে কিছু নথিহীন বিদেশি নাগরিক কাজের খোঁজে ওই এলাকায় আসবেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতে ফাঁদ পেতে অভিযুক্তদের আটক করা হয়।
গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে চারজন পুরুষ, দু’জন মহিলা এবং এক নাবালক ছেলে রয়েছে। আটক করার পর তাঁদের পরিচয়, চলাফেরা এবং যোগাযোগের নেটওয়ার্ক খতিয়ে দেখা শুরু হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, অভিযুক্তরা টেলিফোনের মাধ্যমে বাংলাদেশে থাকা আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিতদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন।
পুলিশ জানিয়েছে, কারা তাঁদের ভারতে প্রবেশে সাহায্য করেছে, কোথায় থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছে বা কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিয়েছে, তা জানতে আরও তদন্ত চলছে।
এই গ্রেফতারি মহারাষ্ট্রজুড়ে অবৈধভাবে বসবাসকারী বাংলাদেশি নাগরিকদের বিরুদ্ধে পুলিশের চলমান অভিযানের অংশ। গত কয়েক মাস ধরে রাজ্যের বিভিন্ন শহরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান ও নথি যাচাই কর্মসূচি চালানো হচ্ছে।
এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে মুম্বইয়ের অন্ধেরি পশ্চিমের ইয়ারি রোড এলাকায় ভারসোভা থানার পুলিশ একটি বড় অভিযান চালিয়ে ২৫ জন বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করেছিল। তাঁদের বিরুদ্ধে বৈধ অনুমতি ছাড়া ভারতে বসবাসের অভিযোগ আনা হয়।
ফেব্রুয়ারির সেই অভিযানে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ২১ জন ট্রান্সজেন্ডার, দু’জন মহিলা এবং দু’জন পুরুষ ছিলেন। পরে তাঁদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করে পুলিশ।
তদন্তকারীদের দাবি, ওই ব্যক্তিরা কয়েক বছর আগে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। প্রথমে কলকাতায় এসে পরে দিল্লি ও গুজরাট হয়ে মুম্বইয়ে বসবাস শুরু করেন।
পুলিশের অভিযোগ, মুম্বইয়ে এসে তাঁরা একাধিক জাল ভারতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করেছিলেন, যাতে নিজেদের ভারতীয় বাসিন্দা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা যায় এবং প্রশাসনের নজর এড়ানো সম্ভব হয়।
সেই অভিযানে অভিযুক্তদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় ও বাংলাদেশি নথি উদ্ধার করা হয়েছিল। জাল নথি তৈরির চক্র এবং অবৈধ অনুপ্রবেশের নেটওয়ার্ক সম্পর্কে তথ্য জানতে সেগুলি বাজেয়াপ্ত করে পরীক্ষা করা হয়।
মহারাষ্ট্র ও দেশের অন্যান্য অংশে সক্রিয় এমন চক্রগুলির বিস্তার এবং কার্যকলাপ সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
______
























