রাঁচি, ৬ জুন (আইএএনএস) : আসন্ন রাজ্যসভা নির্বাচনকে ঘিরে ঝাড়খণ্ডের শাসক জোটে মতপার্থক্য প্রকাশ্যে এসেছে। দুই রাজ্যসভা আসন ভাগাভাগি নিয়ে ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা (জেএমএম) এবং কংগ্রেস-এর মধ্যে টানাপোড়েন ক্রমেই বাড়ছে।
কংগ্রেস ঝাড়খণ্ডের দুটি রাজ্যসভা আসনের মধ্যে একটির জন্য প্রণব ঝা-র নাম প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জেএমএম জানিয়ে দেয় যে তারা দুটি আসনেই নিজেদের প্রার্থী দেবে।
এই ইস্যুতে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন-এর বাসভবনে জেএমএম বিধায়ক ও শীর্ষ নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপস্থিত বিধায়কেরা দলের কার্যকরী সভাপতি হেমন্ত সোরেনকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ ক্ষমতা দেন।
বৈঠকের পর দলের নেতা যোগেন্দ্র প্রসাদ এবং হাফিজুল হাসান সাংবাদিকদের জানান, দলের সব বিধায়কের মতামত ছিল যে জেএমএম-এরই দুটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা উচিত। তাঁরা আরও জানান, ৮ জুনের আগেই দলের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হবে।
জেএমএম নেতৃত্বের দাবি, ঝাড়খণ্ডের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল হিসেবে দুই আসনের উপর তাদের স্বাভাবিক অধিকার রয়েছে। অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে কংগ্রেস প্রণব ঝা-কে ঝাড়খণ্ড থেকে রাজ্যসভা নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে। তিনি বর্তমানে অল ইন্ডিয়া কংগ্রেস কমিটির (এআইসিসি) সচিব এবং কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে-র রাজনৈতিক উপদেষ্টা।
কংগ্রেসের এই ঘোষণার পর রাজনৈতিক মহলে ধারণা তৈরি হয়েছিল যে আসন ভাগাভাগি নিয়ে জোটের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। কিন্তু জেএমএম-এর সাম্প্রতিক অবস্থান সেই ধারণাকে ভেঙে দিয়েছে এবং দুই শরিক দলের মধ্যে দীর্ঘদিনের মতভেদের বিষয়টি আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
সূত্রের খবর, প্রার্থী ঘোষণার দুই দিন আগে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন। এছাড়া কংগ্রেসের ঝাড়খণ্ড দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা কে. রাজু এবং তেলেঙ্গানার উপমুখ্যমন্ত্রী মাল্লু ভাট্টি বিক্রমর্কা সম্প্রতি রাঁচি সফর করে কংগ্রেসকে একটি রাজ্যসভা আসন ছেড়ে দেওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানান।
তবে সেই প্রচেষ্টা সত্ত্বেও জেএমএম-এর দুই আসনের দাবিতে অনড় অবস্থান শাসক জোটের অভ্যন্তরীণ ফাটলকে স্পষ্ট করে তুলেছে।
কংগ্রেস ইতিমধ্যেই নিজেদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে এবং সরে আসার কোনও ইঙ্গিত দেয়নি। একইভাবে জেএমএম-ও দুটি আসনের কোনওটিই ছাড়তে রাজি নয় বলে রাজনৈতিক মহলে ধারণা তৈরি হয়েছে।
ঝাড়খণ্ড বিধানসভায় শাসক জোটের হাতে দুটি আসন জয়ের মতো পর্যাপ্ত সংখ্যা থাকলেও প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে এই অচলাবস্থা জোটের ঐক্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। মনোনয়ন প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাওয়ায় দুই শরিকের এই সংঘাত এখন রাজ্যের রাজনীতির সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে। রাজনৈতিক মহলের নজর এখন হেমন্ত সোরেন এবং কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।
উল্লেখ্য, দেশের ২৪টি রাজ্যসভা আসনের নির্বাচন আগামী ১৮ জুন অনুষ্ঠিত হবে।



















