আগরতলা, ২১ জুলাই: ত্রিপুরা পুলিশের মহাপরিচালক (ডিজিপি) অনুরাগ ধনকরের আকস্মিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে গোটা রাজ্যে। আজ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়। পুলিশ, প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্তরের মানুষ প্রয়াত আইপিএস আধিকারিকের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
মঙ্গলবার সকালে অনুরাগ ধনকরের মরদেহ তাঁর সরকারি বাসভবন থেকে আগরতলার ত্রিপুরা পুলিশ সদর দফতরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ত্রিপুরা পুলিশের পক্ষ থেকে পূর্ণ মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। রাজ্যের সর্বোচ্চ পুলিশ আধিকারিককে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত ছিলেন ঊর্ধ্বতন পুলিশ আধিকারিক, বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ কর্মী এবং সহকর্মীরা। এরপর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় মহাকরণে। সেখানে রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেড্ডি নাল্লু, মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক (ডা.) মানিক সাহা, মন্ত্রিসভার সদস্য, মুখ্যসচিব, শীর্ষ প্রশাসনিক আধিকারিক এবং পুলিশ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তারা প্রয়াত ডিজিপির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এদিন শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করে মুখ্যমন্ত্রী বললেন, এই ক্ষতি অপূরণীয়। পাশাপাশি আইন অনুযায়ী ঘটনার সঠিক তদন্ত হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শ্রদ্ধাজ্ঞাপন পর্ব শেষ হওয়ার পর মরদেহ বিমানযোগে নয়াদিল্লিতে পাঠানো হয়। সেখান থেকে তাঁর নিজ রাজ্য উত্তরপ্রদেশে নিয়ে যাওয়া হবে। বুধবার সেখানে পূর্ণ মর্যাদায় তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
সোমবার রাতে দিল্লি থেকে আগরতলায় পৌঁছান অনুরাগ ধনকরের দাদা বিবেক ধনকর। অন্যদিকে, কানাডায় বসবাসকারী তাঁর একমাত্র পুত্র মঙ্গলবার সন্ধ্যার মধ্যে দিল্লিতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। ত্রিপুরা পুলিশের একটি বিশেষ প্রতিনিধি দল ধনকরের স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে মরদেহ পরিবহন এবং পরিবারের প্রয়োজনীয় সহযোগিতার দায়িত্ব পালন করছে।
ভারপ্রাপ্ত ডিজিপি জি এস রাও বলেন, আগামীকাল সকাল ৯ টায় উত্তর প্রদেশের বাগপতে রাজ্য পুলিশের মহা নির্দেশক অনুরাগ ধ্যানকরের শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে। রাজ্য থেকে প্রতিনিধি হিসেবে ট্রাফিক এস পি, আই জি আইন শৃঙ্খলা এবং টিএসআর দ্বিতীয় ব্যাটলিয়নের কমান্ডেন্ট যাচ্ছেন।
প্রসঙ্গত, ১৯৯৪ ব্যাচের আইপিএস কর্মকর্তা অনুরাগ ধনকর দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে নিষ্ঠার সঙ্গে পুলিশ প্রশাসনে দায়িত্ব পালন করেছেন। ত্রিপুরা ক্যাডারের এই আধিকারিক ২০২৫ সালের মে মাসে রাজ্যের ডিজিপি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। অবসর গ্রহণের নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা অনুযায়ী তাঁকে আরও ১১ মাসের জন্য দায়িত্বে বহাল রাখা হয়েছিল। ত্রিপুরা পুলিশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (সিবিআই), কেন্দ্রীয় শিল্প নিরাপত্তা বাহিনী (সিআইএসএফ)-এ দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনের অংশ হিসেবে কসোভোতেও কর্মরত ছিলেন। ১৯৮৪ সালের শিখবিরোধী দাঙ্গার তদন্তে গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দলের (এসআইটি) নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি বহুচর্চিত পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক জালিয়াতি মামলার তদন্ত তদারকির দায়িত্বও পালন করেছিলেন তিনি।























