ওয়াশিংটন, ৫ জুন (আইএএনএস): হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের কোনও ইউরোপীয় মিত্র দেশের সামরিক সহায়তার প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প । একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ খুব শিগগিরই সম্পূর্ণভাবে উন্মুক্ত ও নিরাপদ থাকবে।
বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে দীর্ঘ প্রশ্নোত্তর পর্বে ইরান, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন।
হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইউরোপীয় দেশগুলোর সহায়তা এখনও চান কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “আমাদের তাদের সাহায্যের প্রয়োজন নেই। বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক বাহিনী আমাদেরই রয়েছে।”
ট্রাম্পের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র মিত্র দেশগুলিকে এই উদ্যোগে অংশ নেওয়ার সুযোগ দিয়েছিল, কিন্তু তারা তাতে সাড়া দেয়নি।
তিনি বলেন, “আমরা ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর কাছে গিয়েছিলাম, অন্য দেশগুলোর কাছেও গিয়েছিলাম। বলেছিলাম, যদি সাহায্য করতে চান তাহলে ভালো হবে। কিন্তু সবাই তা প্রত্যাখ্যান করেছে।”
মার্কিন প্রেসিডেন্টের মতে, এই সিদ্ধান্তের খেসারত ভবিষ্যতে ইউরোপীয় দেশগুলিকেই দিতে হতে পারে, কারণ তারা উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি সরবরাহের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল।
ট্রাম্প বলেন, “এটি তাদের জন্য ব্যয়বহুল সিদ্ধান্ত হয়ে দাঁড়াবে। তাদের এমনটা করা উচিত হয়নি।”
তিনি আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব তেল ও জ্বালানি সম্পদ পর্যাপ্ত রয়েছে। তবে ইউরোপসহ বিশ্বের বহু দেশ উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল।
ইরানের সঙ্গে চলমান আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প বলেন, “চুক্তির মূল বিষয় হলো, ইরান কোনওভাবেই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে পারবে না। আর হরমুজ প্রণালী অবিলম্বে খুলে যাবে।”
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও জানান, ওই অঞ্চলে নৌ-নিরাপত্তা জোরদারে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে।
তাঁর কথায়, “আমরা বড় অংশে মাইন অপসারণের কাজ সম্পন্ন করেছি। বিশ্বের সবচেয়ে আধুনিক মাইনসুইপার আমাদের রয়েছে।”
উল্লেখ্য, হরমুজ বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন করিডর। এটি পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। প্রতিদিন বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই সংকীর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।



















