নয়াদিল্লি, ৫ জুন (আইএএনএস) দিল্লির পূর্বাঞ্চলের বসুন্ধরা এনক্লেভ এলাকার একটি আবাসন থেকে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সহকারী অধ্যাপিকার রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়েছে। ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকাজুড়ে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে দিল্লি পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ জুন দুপুর প্রায় ২টা ৩৫ মিনিটে নিউ অশোক নগর থানায় একটি পিসিআর কল আসে। ফোনে এক মহিলা জানান, তাঁর বোনকে খুন করা হয়েছে এবং তাঁর দেহ বসুন্ধরা এনক্লেভের সত্যম অ্যাপার্টমেন্টের একটি ফ্ল্যাটে পড়ে রয়েছে।
খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। অভিযোগকারী দেবারতি পাল জানান, তাঁর বোন দেবস্মিতা দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্গত শিবাজী কলেজ-এর সহকারী অধ্যাপিকা ছিলেন এবং ওই ফ্ল্যাটে একাই বসবাস করতেন।
পুলিশের কাছে দেবারতি জানান, সকাল থেকে ফ্ল্যাটটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ ছিল এবং বহুবার ফোন করেও তাঁর বোনের কোনও সাড়া পাওয়া যাচ্ছিল না। সন্দেহ হওয়ায় তিনি তালা ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করেন। সেখানে গিয়ে তিনি বোনের নিথর দেহ দেখতে পান।
ঘটনার খবর পেয়ে ক্রাইম টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিস্তারিত তদন্ত চালায়। ফ্ল্যাটের বিভিন্ন অংশের ছবি ও ভিডিও তোলা হয় এবং ফরেনসিক নমুনাসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, গত চার থেকে পাঁচ বছর ধরে দেবস্মিতা ওই ফ্ল্যাটে একাই থাকতেন। দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের জন্য তিনি মূলত অনলাইন ডেলিভারি পরিষেবার ওপর নির্ভর করতেন।
তদন্তকারীরা এখন আবাসন ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছেন। ঘটনার আগে গত দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে কারা ওই ফ্ল্যাটে এসেছিলেন, তা শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি বিভিন্ন ডেলিভারি কর্মী এবং সম্ভাব্য দর্শনার্থীদের সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, মৃত্যুর আগে দেবস্মিতা শেষবার তাঁর মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন। পরে তাঁর বোন যোগাযোগের চেষ্টা করলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর ফ্ল্যাটে গিয়ে তিনি দেহটি উদ্ধার করেন।
ময়নাতদন্তের জন্য দেহটি এলবিএস হাসপাতাল-এ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ১০৩(১) ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্য একাধিক পুলিশ দল গঠন করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।



















