হায়দরাবাদ, ৪ জুন (আইএএনএস): ভারতে নারী ক্রীড়াবিদদের উন্নয়নে কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পিস্তল শুটার এশা সিং। তিনি বলেন, খেলাধুলায় মেয়েদের এগিয়ে আনতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-র নেতৃত্বে নেওয়া পদক্ষেপগুলি দেশের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক ও গুরুত্বপূর্ণ।
বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এশা সিং বলেন, “এটি একটি অসাধারণ উদ্যোগ। আমাদের দেশে নারী ক্রীড়াবিদদের জন্য যে ধরনের সুযোগ-সুবিধা তৈরি করা হচ্ছে, তা সব জায়গায় দেখা যায় না। এমন নেতৃত্ব পেয়ে আমি কৃতজ্ঞ।”
তিনি জানান, কেন্দ্রীয় সরকারের ‘খেলো ইন্ডিয়া’ এবং ‘টার্গেট অলিম্পিক পোডিয়াম স্কিম’ (শীর্ষ)-এর মতো প্রকল্পগুলি মহিলা ক্রীড়াবিদদের জন্য আধুনিক প্রশিক্ষণ, আর্থিক সহায়তা এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার সুযোগ তৈরি করেছে। এর ফলে দেশের ক্রীড়া পরিকাঠামোয় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে।
নারীদের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে এশা বলেন, “এখন অনেক বেশি সংখ্যক মহিলা খেলাধুলায় আসছেন। অবশ্যই আমাদের নিজস্ব কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে, কিন্তু আমি মনে করি আমরা পুরুষদের তুলনায় কোনো অংশে কম নই। আমরা আমাদের সর্বোচ্চটা দিতে সক্ষম। সকল নারী ক্রীড়াবিদকে আমার শুভেচ্ছা।”
মাত্র ২১ বছর বয়সেই এশা সিং অলিম্পিয়ান, তিনবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ পদকজয়ী এবং এশিয়ান গেমসে দ্বিগুণ পদকজয়ী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। সম্প্রতি জার্মানির মিউনিখে অনুষ্ঠিত আইএসএসএফ শুটিং বিশ্বকাপ-এ তিনি মহিলাদের ২৫ মিটার পিস্তল বিভাগে ৪৩ পয়েন্টের বিশ্বরেকর্ড এবং জুনিয়র বিশ্বরেকর্ড গড়ে স্বর্ণপদক জেতেন। পরে ১০ মিটার এয়ার পিস্তল ইভেন্টে রৌপ্যপদকও অর্জন করেন।
মিউনিখে নিজের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে তিনি বলেন, “চাপের মাত্রা সব প্রতিযোগিতাতেই একই রকম থাকে। বরং প্রতিযোগিতার স্তর যত উঁচু হয়, চ্যালেঞ্জও তত বাড়ে। তবে মিউনিখের রেঞ্জ সম্পর্কে আমার পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল, যা আমাকে কিছুটা সাহায্য করেছে। প্রশিক্ষণে যা অনুশীলন করেছি, তা প্রতিযোগিতায় প্রয়োগ করতে পেরে আমি খুবই খুশি।”
আগামী এশিয়ান গেমস-সহ গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতাগুলির প্রস্তুতি প্রসঙ্গে এশা বলেন, “আমি প্রতিযোগিতার নাম দেখে প্রস্তুতির ধরন বদলাই না। আমাদের খেলা মূলত মানসিক শক্তির উপর নির্ভরশীল। সবচেয়ে বড় লড়াইটা নিজের মনেই হয়। তাই একইভাবে প্রস্তুতি চালিয়ে যাব এবং দেশের জন্য আরও সাফল্য আনার চেষ্টা করব।”



















