তিরুবনন্তপুরম, ৩ জুন (আইএএনএস): সিএমআরএল-এক্সালজিক মাসিক অর্থপ্রদান মামলায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও বিরোধী দলনেতা পিনারাই বিজয়নের বাড়িতে তল্লাশি চালানোর পর এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)-এর আধিকারিকদের উপর হামলার ঘটনায় তদন্ত আরও গভীরে প্রবেশ করেছে। এবার তদন্তের মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে হামলার নেপথ্যে কোনও সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র ছিল কি না।
রাজ্য পুলিশ ও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা—দুই পক্ষই তদন্ত জোরদার করেছে।
ঘটনার তদন্তে ক্যান্টনমেন্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনারের সরাসরি তত্ত্বাবধানে ৩০ সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করা হয়েছে। মিউজিয়াম থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক আর. প্রশান্ত তদন্তের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তাঁকে সহায়তা করছেন পাঁচজন ইন্সপেক্টর ও সাতজন সাব-ইন্সপেক্টর।
তদন্তকারী দল ইতিমধ্যেই কোচিতে ইডির সহকারী অধিকর্তা সনিথ রেড্ডি-সহ একাধিক আধিকারিকের বয়ান রেকর্ড করেছে। অভিযানের সঙ্গে সম্পর্কিত তল্লাশি পরোয়ানাসহ গুরুত্বপূর্ণ নথিও সংগ্রহ করা হয়েছে।
ইডি আধিকারিকদের দাবি, ঘটনাটি কোনও তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ ছিল না, বরং এটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত হামলা। সংস্থার অভিযোগ, তাদের সরকারি দায়িত্ব পালনে বাধা দিতেই বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে এই আক্রমণ সংগঠিত করা হয়েছিল।
সিট এখন খতিয়ে দেখছে, হামলাকারীদের একত্রিত করতে কোনও রাজনৈতিক নেতা বা স্থানীয় দলীয় কর্মী ভূমিকা নিয়েছিলেন কি না।
তদন্তে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে ডিজিটাল প্রমাণ। হামলায় অভিযুক্তদের মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড, হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা এবং অভিযানের আগে ও চলাকালীন হওয়া যোগাযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সাইবার সেলের সহায়তায় নেতা-কর্মীদের মধ্যে আদানপ্রদান হওয়া বার্তাও পরীক্ষা করা হচ্ছে।
তদন্তকারীদের ধারণা, এই ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণ থেকেই হামলার নেপথ্যে কোনও সমন্বিত পরিকল্পনার অস্তিত্ব থাকলে তা প্রকাশ্যে আসতে পারে।
এখন পর্যন্ত মিউজিয়াম থানায় দায়ের হওয়া মামলায় প্রায় ৩০০ জনকে শনাক্ত করে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ৪৬ জনকে শনাক্ত করেছে পুলিশ। বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।
তবে ইডির বক্তব্য, তদন্ত শুধুমাত্র মাঠপর্যায়ের কর্মীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। যারা হামলার নির্দেশ দিয়েছিল বলে অভিযোগ, তাদের ভূমিকাও তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন।
এদিকে গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্তদের জামিনের বিরোধিতা করার প্রস্তুতিও নিচ্ছে ইডি। সেজন্য সংস্থা ভিডিও ফুটেজসহ বিভিন্ন প্রমাণ সংগ্রহ করছে এবং প্রয়োজনে সেশনস কোর্টে হস্তক্ষেপের কথাও বিবেচনা করছে।
ইডি ইতিমধ্যেই ঘটনাটি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককে জানিয়েছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো (সিবিআই)-এর মাধ্যমে তদন্তের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সংস্থার দাবি, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার উপর এমন হামলা অত্যন্ত গুরুতর বিষয়।
অন্য রাজ্যেও ইডি আধিকারিকদের উপর হামলার ঘটনার পর সিবিআই তদন্তের নজির রয়েছে বলে উল্লেখ করেছে ইডি।
এদিকে তদন্তকারী দলের প্রধান আর. প্রশান্তকে নিয়োগ ঘিরেও রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তিনি কেরল পুলিশ অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের রাজ্য সভাপতি এবং বামপন্থী সংগঠনগুলির ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। ফলে বিরোধী শিবির তাঁর নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
তবে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর এই মামলায় নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করাই এখন তাঁর সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
তিরুবনন্তপুরমের একটি বিচারবিভাগীয় প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট আদালতও পর্যবেক্ষণ করেছে যে ঘটনাটি শুধুমাত্র জনতার বিক্ষোভ ছিল না, বরং ইডি আধিকারিক এবং সিআরপিএফ জওয়ানদের লক্ষ্য করে সংগঠিত হামলা ছিল।
রাজ্য পুলিশ, ইডি এবং আদালতের কড়া নজরদারির মধ্যে তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই কেরলের রাজনীতিতে এই ঘটনা নতুন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠতে চলেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।



















