শ্রীনগর, ৩ জুন (আইএএনএস): জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ বুধবার তাঁর দল ন্যাশনাল কনফারেন্স (এনসি)-এর মন্ত্রী ও বিধায়কদের সঙ্গে বাসে করে দাচিগাম জাতীয় উদ্যানে যান। সেখানে গত প্রায় ১৯ মাসে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের সরকারের কাজকর্মের মূল্যায়ন ও পর্যালোচনার জন্য দিনভর বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে।
ওমর আবদুল্লাহ সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ (প্রাক্তন টুইটার) একটি পোস্টে জানান, “আমরা একটি অফ-সাইট বৈঠকে যাচ্ছি, যেখানে গত ১৯ মাসের কাজের হিসাব-নিকাশ করা হবে—ভালো, মন্দ এবং মাঝামাঝি সবকিছু নিয়েই আলোচনা হবে।”
একই সঙ্গে বৈঠকের স্থান শেষ মুহূর্তে পরিবর্তন করা হয়েছে বলে যে জল্পনা ছড়িয়েছিল, তা উড়িয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী।
এক্স-এ অন্য একটি পোস্টে তিনি লেখেন, “আমি দুঃখিত, কিন্তু বৈঠকের স্থান শেষ মুহূর্তে পরিবর্তন করা হয়নি। শুরু থেকেই এই বৈঠকটি অফ-সাইট করার পরিকল্পনা ছিল এবং আমি যে স্থানটি বেছে নিয়েছিলাম, সেখানে কয়েক দিন আগেই সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।”
বৈঠকের এজেন্ডা সম্পর্কে মুখ্যমন্ত্রীর নীরবতা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে। সংবাদমাধ্যমও এই বৈঠককে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে।
এনসি নেতৃত্বাধীন সরকারকে সমর্থনকারী পাঁচ জন নির্দল বিধায়ককেও বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে ছয় জন বিধায়ক নিয়ে সরকারকে সমর্থন করলেও কংগ্রেসকে এই বৈঠকের বাইরে রাখা হয়েছে।
ওমর আবদুল্লাহ আগেই জানিয়েছেন, তাঁর মন্ত্রিসভায় কংগ্রেসের জন্য একটি মন্ত্রিপদ খালি রাখা হয়েছে এবং দলটি চাইলে যে কোনও সময় তাদের প্রতিনিধি মনোনীত করতে পারে।
অন্যদিকে কংগ্রেসের অবস্থান স্পষ্ট—জম্মু ও কাশ্মীরকে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত তারা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের সরকারে যোগ দেবে না।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দাচিগামে বিধায়কদের মধ্যাহ্নভোজের ব্যবস্থাও আগেভাগেই করা হয়েছিল।
দাচিগাম জাতীয় উদ্যানে একটি বিশ্রামাগার রয়েছে, যার বিস্তীর্ণ সবুজ লন বিশেষ আকর্ষণ। তবে জাতীয় উদ্যানের ভেতরে অবস্থিত এই বিশ্রামাগারে প্রবেশের উপর কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী কাশ্মীর সফরে গেলে নিয়মিতভাবে দাচিগামের এই বিশ্রামাগারেই অবস্থান করতেন।



















