আহমেদাবাদ, ৩ জুন (আইএএনএস): গুজরাটের আহমেদাবাদে বৃহৎ আকারের পরিচয় ও নথি যাচাই অভিযানে ১৩১ জন বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করেছে আহমেদাবাদ ক্রাইম ব্রাঞ্চ। পাশাপাশি আরও ১৬০ জনের নথিপত্র ও পরিচয় যাচাইয়ের কাজ এখনও চলছে বলে বুধবার পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
আহমেদাবাদ পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) শরদ সিংহল আইএএনএস-কে জানান, অভিযানটি কোনও একটি নির্দিষ্ট এলাকায় সীমাবদ্ধ ছিল না। শহরের বিভিন্ন ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকায় একযোগে এই তল্লাশি ও যাচাই অভিযান চালানো হয়।
তিনি বলেন, “মোট ২৯১ জনকে যাচাইয়ের আওতায় আনা হয়েছে। এর মধ্যে ১৩১ জনকে বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বাকি ব্যক্তিদের নথিপত্র ও পরিচয় যাচাই প্রক্রিয়া চলছে।”
পুলিশের দাবি, নারোল, ভাটভা, নারোদা, দানিলিমদা, সোলা, সারখেজ-সহ শহরের একাধিক এলাকায় এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। অবৈধভাবে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকদের শনাক্ত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা।
আটক ব্যক্তিদের ক্রাইম ব্রাঞ্চের দফতরে নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বিভিন্ন সরকারি সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে তাঁদের নথিপত্র ও অভিবাসন-সংক্রান্ত তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, এর আগেও গুজরাটে একাধিকবার অনুরূপ অভিযান চালানো হয়েছে। গত বছরের এপ্রিল মাসে আহমেদাবাদ ও সুরাতে যৌথ অভিযানে এক হাজারেরও বেশি সন্দেহভাজন বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করেছিল গুজরাট পুলিশ। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত ওই অভিযানে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়েছিল।
এছাড়া ২০২৪ সালে জাল নথি প্রস্তুত ও মানবপাচার চক্রের সঙ্গে যোগসূত্রের অভিযোগে আহমেদাবাদ ক্রাইম ব্রাঞ্চ ৪৮ জন বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করেছিল। তদন্তে আধার ও প্যান কার্ড-সহ বিভিন্ন জাল পরিচয়পত্রের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হয়।
পূর্ববর্তী কয়েকটি অভিযানে আটক বাংলাদেশি নাগরিকদের মধ্যে অনেকে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এক ক্ষেত্রে ১৬ জন বাংলাদেশি নাগরিককে আহমেদাবাদ থেকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণ করা হয়েছিল।
পুলিশের মতে, বর্তমান অভিযানটি অবৈধভাবে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকদের চিহ্নিত করা এবং জাল পরিচয়পত্র ব্যবহারের সম্ভাব্য ঘটনাগুলি তদন্তের উদ্দেশ্যে নিয়মিতভাবে পরিচালিত যাচাই অভিযানেরই অংশ।
_______



















