নয়াদিল্লি, ২ জুন (আইএএনএস): বিজেপির ‘নো বিজেপি’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে দলের জাতীয় সভাপতি নীতিন নবীন মঙ্গলবার নেপালের শাসক দল রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতা পার্টি (আরএসপি)-র একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেন। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন রবি লামিছানে।
বৈঠকে নীতিন নবীন বিজেপির আদর্শিক ভিত্তি, সাংগঠনিক কাঠামো এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-র শাসন মডেল সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা তুলে ধরেন।
তিনি ব্যাখ্যা করেন, কীভাবে বিজেপি জাতীয় স্তর থেকে বুথ স্তর পর্যন্ত সংগঠন পরিচালনা করে এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে। বুথ-স্তরের কর্মীদের ভূমিকা এবং তৃণমূল পর্যায়ে জনসংযোগের গুরুত্বও তিনি তুলে ধরেন।
নীতিন নবীন ভারত ও নেপালের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক অভিন্ন সভ্যতাগত ঐতিহ্য, সাংস্কৃতিক ঘনিষ্ঠতা এবং জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। তাঁর মতে, এ ধরনের রাজনৈতিক সংলাপ দুই দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে সাহায্য করে।
বৈঠকে আরএসপি প্রতিনিধিদল বিজেপির সদস্য সংগ্রহ প্রক্রিয়া, প্রার্থী নির্বাচন পদ্ধতি এবং তৃণমূল স্তরের নেতৃত্ব গড়ে তোলার কৌশল সম্পর্কে আগ্রহ প্রকাশ করে। এর জবাবে বিজেপি সভাপতি জানান, দলের সাংগঠনিক শক্তির মূল ভিত্তি হলো ধারাবাহিক জনসংযোগ, বুথ-ভিত্তিক সংগঠন এবং সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ।
তিনি আরও বলেন, উন্নয়ন, জনসেবা, সুশাসন এবং কল্যাণমূলক প্রকল্পের কার্যকর বাস্তবায়নই মোদী সরকারের প্রশাসনিক দর্শনের প্রধান স্তম্ভ।
বৈঠকে রাজনীতিতে ‘জেনারেশন জেড’-এর ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়েও আলোচনা হয়। তরুণ প্রজন্ম কীভাবে গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ, জনমত গঠন এবং ভবিষ্যতের রাজনৈতিক নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে, সে বিষয়ে উভয় পক্ষ মতবিনিময় করে।
এই বৈঠকে বিজেপির একাধিক শীর্ষ নেতা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন অরুণ সিং, সঞ্জয় জয়সওয়াল, বাঁশুরি স্বরাজ এবং বিজয় চৌথাইওয়ালে।
ভারত সফরের অংশ হিসেবে নেপালের প্রতিনিধিদল বিজেপির মিডিয়া সেন্টার এবং কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারও পরিদর্শন করে। সেখানে তারা দলের যোগাযোগ ব্যবস্থা ও জ্ঞান ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে ধারণা লাভ করে।
পরে মধ্যাহ্নভোজ বৈঠকে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত, সাংসদ মনোজ তিওয়ারি, রামবীর সিং বিধুড়ি, প্রবীণ খাণ্ডেলওয়াল এবং কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী ও দিল্লি বিজেপি সভাপতি হর্ষ মালহোত্রা উপস্থিত ছিলেন।
রাজনৈতিক মহলের মতে, দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো এবং বিজেপির সাংগঠনিক মডেল ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা তুলে ধরার বৃহত্তর কৌশলের অংশ হিসেবেই এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে।
_______



















