নয়াদিল্লি, ২ জুন (আইএএনএস): ভারত-নেপাল সীমান্ত সংক্রান্ত বিষয়ে কোনও তৃতীয় পক্ষের ভূমিকা নেই বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিল ভারত। নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহের সাম্প্রতিক মন্তব্যের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার এই প্রতিক্রিয়া জানায় বিদেশ মন্ত্রক (এমইএ)।
নয়াদিল্লিতে সাপ্তাহিক সাংবাদিক বৈঠকে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ভারত-নেপাল সীমান্তের প্রায় ৯৮ শতাংশ ইতিমধ্যেই চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে কয়েকটি অংশ এখনও অমীমাংসিত রয়েছে।
তিনি বলেন, “নেপালের প্রধানমন্ত্রীর ভারত-নেপাল সীমান্ত সংক্রান্ত মন্তব্য এবং পরে নেপালের বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতি আমরা দেখেছি। ভারত-নেপাল সীমান্তের প্রায় ৯৮ শতাংশ নির্ধারিত হলেও কিছু অংশ এখনও বাকি রয়েছে। গণ্ডক নদীর গতিপথ পরিবর্তনের ফলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।”
জয়সওয়াল আরও জানান, সীমান্তের নির্ধারিত অংশে ‘নো ম্যানস ল্যান্ড’-এ উভয় দেশের নাগরিকদের দখল এবং অনুপ্রবেশের কিছু ঘটনা রয়েছে, যা যৌথভাবে চিহ্নিত করার কাজ চলছে।
তাঁর কথায়, “সীমান্ত-সংক্রান্ত সব বিষয় নিয়ে আলোচনা ও সমাধানের জন্য দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক ব্যবস্থা রয়েছে। এটা স্পষ্ট হওয়া উচিত যে ভারত ও নেপালের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে কোনও তৃতীয় পক্ষের ভূমিকা নেই।”
রবিবার নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ দাবি করেছিলেন যে শুধু ভারতই নেপালের জমি দখল করেনি, নেপালও ভারতের জমি বিভিন্ন জায়গায় দখল করেছে। যদিও তিনি কোথায় এই দখলদারি হয়েছে, তা স্পষ্ট করেননি।
নেপালের সংসদে বিরোধী আইনপ্রণেতারা লিম্পিয়াধুরা, লিপুলেখ এবং কালাপানি অঞ্চলে ভারতের কথিত অনুপ্রবেশের বিষয়টি উত্থাপন করলে তার জবাবে শাহ বলেন, “প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর আমি জানতে পেরেছি যে শুধু ভারত নয়, নেপালও ভারতের জমি একাধিক স্থানে দখল করেছে। বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের বসে আলোচনা করা উচিত।”
উল্লেখ্য, লিম্পিয়াধুরা-লিপুলেখ-কালাপানি অঞ্চল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ভারত ও নেপালের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। উভয় দেশই ওই অঞ্চলের উপর সার্বভৌমত্ব দাবি করলেও বাস্তবে বহু দশক ধরে এলাকা ভারতের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
শাহ আরও জানান, সীমান্ত বিরোধ নিয়ে নেপাল ভারত ও চিনের পাশাপাশি ব্রিটেনের সঙ্গেও কূটনৈতিক স্তরে আলোচনা করেছে। তাঁর এই মন্তব্য নেপালে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়।
তিনি বলেন, “আমরা শুধু ভারত ও চিনের সঙ্গেই নয়, ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গেও কথা বলেছি। এই সমস্যার শিকড় ব্রিটিশ শাসনামলে, তাই ব্রিটেনেরও এ বিষয়ে আগ্রহী হওয়া উচিত।”
নেপালের বিরোধী রাজনৈতিক দল, বিদেশনীতি বিশেষজ্ঞ এবং সীমান্ত বিশ্লেষকদের একাংশ শাহের এই মন্তব্যের সমালোচনা করে বলেন, এতে সীমান্ত ইস্যুতে ভারতের সঙ্গে ভবিষ্যৎ আলোচনায় নেপালের অবস্থান দুর্বল হতে পারে।
বিতর্কের পর রবিবার সন্ধ্যায় নেপাল সরকার একটি বিবৃতি জারি করে জানায়, প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য মূলত সীমান্তবর্তী অঞ্চলে নাগরিকদের জমি ব্যবহার ও দখল সংক্রান্ত কারিগরি সমীক্ষার প্রসঙ্গে করা হয়েছিল।
নেপালের বিদেশ মন্ত্রক জানায়, নদীভিত্তিক সীমান্ত এলাকায় ‘ফিক্সড বাউন্ডারি প্রিন্সিপল’ অনুসরণের ফলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যেখানে কিছু নেপালি নাগরিক ভারতের ভূখণ্ডের অন্তর্গত জমিতে বসবাস বা চাষাবাদ করছেন, আবার কিছু ভারতীয় নাগরিক নেপালের ভূখণ্ডের জমি ব্যবহার করছেন।
১৮১৬ সালের সুগৌলি চুক্তির ভিত্তিতে ভারত ও নেপালের দীর্ঘ উন্মুক্ত সীমান্ত নির্ধারিত হলেও সুস্তা এবং লিম্পিয়াধুরা-লিপুলেখ-কালাপানি অঞ্চলের মতো কিছু এলাকায় সীমান্ত মানচিত্রণ এখনও সম্পূর্ণ হয়নি।
এদিকে সাংবাদিক বৈঠকে রণধীর জয়সওয়াল নেপালের শাসক দল রাষ্ট্রীয় স্বাধীন পার্টির (আরএসপি) সভাপতি রবি লামিছানের ভারত সফর সম্পর্কেও মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, “রবি লামিছানের ভারত সফর চলছে। ভারত ও নেপালের মধ্যে গভীর জন-জন সম্পর্ক রয়েছে। দুই দেশের রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যেও নিয়মিত যোগাযোগ বজায় থাকে। তিনি ভারতে এসে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন এবং শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক বৈঠকও করার কথা রয়েছে।”
_____



















