মুম্বই, ২ জুন (আইএএনএস): গরুকে ‘জাতীয় পশু’ ঘোষণার দাবি ঘিরে চলা বিতর্কের মধ্যে কংগ্রেস নেতা হুসেন দলওয়াই মঙ্গলবার বলেন, কেউ গরুকে ‘মা’ বলে মনে করতে পারেন, কিন্তু মুসলিমদের সেই বিশ্বাস মেনে নেওয়ার কোনও বাধ্যবাধকতা নেই।
আইএএনএস-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দলওয়াই বলেন, “আগে গরুকে রাজ্যের পশু বলা হতো, এখন তাকে মা বলা হচ্ছে। মুসলিমরা একধাপ পিছিয়ে গেলেও তাঁদের আরও পিছনে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। আপনি গরুকে মা বলতে পারেন, কিন্তু আমরা তাকে এই দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাণী এবং রাষ্ট্রের সম্পদ হিসেবে দেখি। এতে ভুল কোথায়?”
তিনি আরও বলেন, “আপনারা গরুকে মা হিসেবে মানতে পারেন, কিন্তু মুসলিমরা তা মেনে নেবে না। সবাইকে কি একইভাবে ভাবতেই হবে? আমরা ভারতকে ‘ভারতমাতা’ বলি। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইজরায়েল সফরে গিয়ে নাকি ইজরায়েলকে ‘পিতৃভূমি’ বলেছিলেন। এ ধরনের বক্তব্যের কোনও অর্থ হয় না।”
উল্লেখ্য, সম্প্রতি বিজনৌরে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে যোগী আদিত্যনাথ বলেছিলেন, “গরু আমাদের মা। আমাদের জন্মদাত্রী মায়ের সঙ্গে যেমন সম্পর্ক, গোমাতার সঙ্গেও তেমনই সম্পর্ক। এই সম্পর্ক প্রমাণ করার বা আলাদা কোনও স্বীকৃতি দেওয়ার প্রয়োজন নেই।”
তিনি আরও বলেন, “গোমাতা নিজেই রাষ্ট্রমাতা, তাঁকে আলাদা করে রাষ্ট্রমাতার স্বীকৃতি দেওয়ার প্রয়োজন নেই।”
বকরি ঈদ উপলক্ষে সম্প্রতি কয়েকজন বিশিষ্ট মুসলিম ধর্মগুরুও গরুকে জাতীয় পশুর মর্যাদা দেওয়ার দাবি তুলেছিলেন। তাঁদের যুক্তি ছিল, এতে গরু জবাই নিরুৎসাহিত হবে এবং দুধ উৎপাদনকারী এই প্রাণীর মর্যাদা আরও বৃদ্ধি পাবে।
আজমের শরিফ দরগাহ, নাখোদা মসজিদ এবং হজরত নিজামুদ্দিন দরগাহ-সহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ইসলামিক ধর্মগুরুরা মুসলিম সম্প্রদায়কে ঈদ-উল-আজহায় গরু কোরবানি থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
আজমেরের সৈয়দ সরওয়ার চিশতি প্রধানমন্ত্রীকে সংসদে আইন এনে গরুকে জাতীয় পশু ঘোষণা, গো-হত্যা নিষিদ্ধকরণ এবং গরুর মাংস রপ্তানি বন্ধ করার আবেদন জানান।
অন্যদিকে অল ইন্ডিয়া জামিয়াতুল কুরেশ-ও গরুকে জাতীয় পশুর মর্যাদা দেওয়ার দাবি জানিয়েছে। সংগঠনের কার্যনির্বাহী সভাপতি মহম্মদ জাভেদ কুরেশি অভিযোগ করেন, গরুর মাংস রপ্তানিকারক সংস্থাগুলি অবৈধভাবে পশু জবাই করে বিপুল মুনাফা করছে।
তবে ধর্মগুরুরা একই সঙ্গে গো-রক্ষার নামে স্বঘোষিত গোরক্ষক গোষ্ঠীর বাড়বাড়ন্ত এবং গবাদি পশু ব্যবসায়ীদের হয়রানির অভিযোগও তুলেছেন। তাঁদের বক্তব্য, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা বন্ধ হওয়া উচিত।



















