কলকাতা, ২ জুন (আইএএনএস): কলকাতার গল্ফগ্রিনে যুগলের রহস্যমৃত্যুর তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, যে ফ্ল্যাট থেকে যুগলের দেহ উদ্ধার করা হয়েছিল, সেখানে নিয়মিতভাবে মাদক, মদ্যপান এবং তথাকথিত ‘হাউস পার্টি’ বা রেভ-পার্টির আয়োজন হতো। পাশাপাশি সেখানে অশালীন ভিডিও বা রিলও তৈরি করা হতো বলে অভিযোগ।
কলকাতা পুলিশের এক শীর্ষ আধিকারিক জানান, ফ্ল্যাটটি মূলত মাদক ও মদ্যপানের আসর হিসেবে ব্যবহৃত হতো। সেখানে বহু যুবক-যুবতী নিয়মিত যাতায়াত করতেন এবং নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন করতেন।
রবিবার গল্ফগ্রিনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মহম্মদ দিলশাদ এবং তাঁর বান্ধবী মেহুলি সান্যাল-এর দেহ উদ্ধার হয়। মেহুলির মা, যিনি দক্ষিণ কলকাতার রামগড় এলাকার বাসিন্দা, অভিযোগ করেন যে তাঁর মেয়েকে খুন করা হয়েছে।
এই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ রবিবারই মুস্তাক আলি মোল্লা ওরফে রোহিত এবং অঞ্জলি বাঙ্গিরো নামে এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করে। পরে চন্দন পাসওয়ান নামের আরও এক যুবককে আটক করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার রাতে ওই ফ্ল্যাটে একটি হাউস পার্টির আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে দিলশাদ, মেহুলি, মুস্তাক, অঞ্জলি এবং চন্দন উপস্থিত ছিলেন। চন্দন শনিবার বিকেলেই ফ্ল্যাট ছেড়ে চলে যান বলে তদন্তে জানা গেছে।
ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, অতিরিক্ত মাদক সেবনের কারণেই দু’জনের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রথমে মেহুলির মৃত্যু হয় এবং কিছুক্ষণ পরে মারা যান দিলশাদ। মেহুলির মাথায় যে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে, তা পড়ে যাওয়ার ফলে হয়েছে বলেই ধারণা।
তদন্তের স্বার্থে সোমবার ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। ফ্ল্যাট থেকে বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে, যাতে কী ধরনের মাদক ব্যবহার করা হয়েছিল তা নির্ধারণ করা যায়।
পুলিশ আরও জানতে পেরেছে যে, ২০২৩ সালে মেহুলি বাড়ি ছেড়ে এক যুবকের সঙ্গে চলে যান। এরপর তিনি বিভিন্ন সঙ্গীর সঙ্গে বসবাস করেছেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। সম্প্রতি তিনি মুস্তাকের সঙ্গে ‘লিভ-ইন’ সম্পর্কে ছিলেন বলেও জানা গেছে।
তদন্তকারীদের দাবি, দক্ষিণ কলকাতার বিভিন্ন রেভ-পার্টি ও হাউস পার্টিতে মেহুলির নিয়মিত যাতায়াত ছিল। সেই সূত্রেই তাঁর পরিচয় হয় কলেজছাত্রী অঞ্জলির সঙ্গে। অন্যদিকে, মুস্তাক অধিকাংশ সময় ওই ফ্ল্যাটেই দিলশাদের সঙ্গে থাকতেন।
পুলিশের অভিযোগ, এক বা দু’দিনের জন্য যুবক-যুবতীরা ওই ফ্ল্যাটে থাকতেন এবং সেখানে অবাধে মাদক ও মদ্যপান চলত। এর বিনিময়ে দিলশাদকে মোটা অঙ্কের অর্থ ‘প্যাকেজ’ হিসেবে দিতে হতো।
এছাড়া ওই ফ্ল্যাটে অশালীন ভিডিও ধারণ করা হতো কি না, সেই অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুরো ঘটনার নেপথ্যে আরও কেউ জড়িত কি না এবং মাদক সরবরাহের উৎস কোথায়, তা জানার জন্য তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
_______



















