নয়াদিল্লি, ২ জুন (আইএএনএস): গরুর সাংস্কৃতিক ও সভ্যতাগত গুরুত্ব নিয়ে যোগী আদিত্যনাথ-এর সাম্প্রতিক মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মহলে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বেশ কয়েকজন ধর্মীয় নেতা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব গোরক্ষার পক্ষে মত প্রকাশ করেছেন।
বিহারের মন্ত্রী রাম কৃপাল যাদব বলেন, ভারতীয় সমাজ ও সংস্কৃতিতে গরুর বিশেষ স্থান রয়েছে।
তাঁর বক্তব্য, “মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ যথার্থই বলেছেন যে আমরা গরুকে মাতৃসম মনে করি এবং পূজা করি। গরু সম্পদ, পশুধন এবং পুষ্টির উৎস। তাই গরুর সম্মান, সুরক্ষা ও সংরক্ষণ করা আমাদের মৌলিক কর্তব্য।”
অন্যদিকে, ধর্মগুরু জগদগুরু পরমহংস আচার্য যোগীর মন্তব্যকে সমর্থন করে বলেন, সনাতন ধর্মের মূল দর্শন না বুঝে অনেকেই গরুকে জাতীয় পশু ঘোষণার দাবি বা তার বিরোধিতা নিয়ে সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণ করেন।
তাঁর মতে, “সনাতন ধর্মের নীতি ও দর্শন সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকলে এই বিষয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়। পরিস্থিতি অনুযায়ী অবস্থান বদলানো চিন্তাগত অসঙ্গতির পরিচয় দেয়।”
এদিকে মাওলানা সৈয়দ আব্বাস সারা দেশে গরু জবাই নিষিদ্ধ করার পক্ষে মত প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “যদি গরুকে মা হিসেবে সম্মান করা হয়, তাহলে আমি মনে করি সেটি যথার্থ। আমাদের হিন্দু ভাইদের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান দেখিয়ে দেশজুড়ে গরু জবাই নিষিদ্ধ হওয়া উচিত।”
আব্বাস আরও বলেন, দেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর অনুভূতিকে সম্মান না করা দুর্ভাগ্যজনক হবে।
ধর্মীয় নেতা মহন্ত সীতারাম দাস-ও যোগীর বক্তব্যের সমর্থনে বলেন, “গৌমাতাকে বিশ্বজননী হিসেবে দেখা হয় এবং বিশ্বাস করা হয় যে সকল দেবদেবীর বাস তাঁর মধ্যে। তাই গরুর প্রতি শ্রদ্ধা, ভক্তি ও মাতৃত্বের অনুভূতি থাকা উচিত। যাঁদের মধ্যে সেই অনুভূতি নেই, তাঁরা গরুর প্রকৃত গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারবেন না।”
উল্লেখ্য, সোমবার এক অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ বলেন, ভারতীয় ঐতিহ্যে গরুকে শুধুমাত্র একটি পশু হিসেবে দেখা হয় না, বরং মাতৃসম মর্যাদা দেওয়া হয়। পাশাপাশি তিনি মুসলিম ধর্মগুরুদেরও আহ্বান জানান, যাতে তাঁরা তাঁদের অনুসারীদের এমন কোনও কাজ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন যা গরুর প্রতি অসম্মান হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।



















